অতিরিক্ত টাকা আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা

হাজীগঞ্জে জেএসসি, জেডিসি ও ভোকেশনাল পরীক্ষার্থী ৮০২৯ জন

হাজীগঞ্জ ব্যুরো :
জেএসসি, জেডিসি ও ভোকেশনাল পরীক্ষা-২০১৮ উপলক্ষে কেন্দ্র সচিবদের সাথে মতবিনিময় করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়–য়া। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলার ১১টি পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।
মতবিনিময়কালে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত বোর্ড ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা আদায় না করার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়–য়া বলেন, যারা বা যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত বোর্ড ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা আদায় করবেন তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্র সচিবরা বলেন, নির্ধারিত বোর্ড ফি দিয়ে পরীক্ষা চলাকালীন ব্যয় বহন করা অসম্ভব। নির্ধারিত বোর্ড ফি দিয়ে বোর্ড ও জেলা থেকে পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র আনা-নেয়া, পরীক্ষা কেন্দ্রে বেঞ্চ আনা-নেয়া বাবদ ভ্যান এবং শ্রমিক ব্যয়, জেলা থেকে থানায় প্রশ্ন আনা এবং থানা থেকে কেন্দ্রে প্রশ্ন নেয়া ও থানায় উত্তরপত্র পৌঁছানো ব্যয়।
পরীক্ষার খাতা প্যাকেট করা খরচ বাবদ, বোর্ডে উত্তরপত্র পৌঁছানো বাবদ ডাক খরচ, বোর্ডের ওয়েবসাইট বা মেইল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ডাউনলোড ও প্রিন্ট খরচ, হল পর্যবেক্ষক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যদের সম্মানজনক অনারিয়াম বা টিএ/ডিএ খরচ এবং পরীক্ষা চলাকালীন আনুসাঙ্গীক ব্যয় নির্বাহ করা অসম্ভব। এছাড়া কোন কোন বিষয়ে দুই সংখ্যার নিচে পরীক্ষার্থী থাকে। এতে পরীক্ষা ব্যয় কিন্তু একই হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়–য়া কেন্দ্র সচিব ও স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের দিক-নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নির্ধারিত বোর্ড ফি দিয়ে পরীক্ষা ব্যয় নির্বাহ করা অসম্ভব হলে, প্রয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুপারিশক্রমে বোর্ড বরাবর লিখিত আবেদন করুন। তারপরও পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ড ফি ব্যতিত অতিরিক্ত টাকা আদায় করা যাবে না। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মতবিনিময়কালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ্ আলী রেজা আশরাফী, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনসহ সকল কেন্দ্র সচিব এবং জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সারা দেশের মতো আজ হাজীগঞ্জে চলতি বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) এবং ভোকেশনাল পরীক্ষায় বসছে ৮০২৯ পরীক্ষার্থী। উপজেলার ১১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে ৭টি জেএসসি কেন্দ্রে ৬২৫০, ৩টি জেডিসি কেন্দ্রে ১৪৫৯ ও ১টি ভোকেশনাল কেন্দ্রে ৩২০জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর ১১টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৮০২৯ জন জেএসসি, জেডিসি ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নিবে। তাদের মধ্যে ৩২১৮ জন ছাত্র ও ৪৮১১ জন ছাত্রী।
উপজেলার ৭টি জেএসসি কেন্দ্রে ৬২৫০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিবে। তাদের মধ্যে ২৪৩৭ জন ছাত্র ও ৩৮১৩ জন ছাত্রী। ৩টি জেডিসি কেন্দ্রে ১৪৫৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিবে। তাদের মধ্যে ৫৮৪ জন ছাত্র এবং ৮৭৫ জন ছাত্রী। অপরদিকে উপজেলার মাত্র ১টি কেন্দ্রে ৩২০ জন পরীক্ষার্থী ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নিবে। তাদের মধ্যে ১৯৭ জন ছাত্র ও ১২৩ জন ছাত্রী।