ঘন কুয়াশায় চাঁদপুরে ১৩ ঘণ্টা পর ফেরি চলাচল শুরু

দু’পাড়ে লাশবাহী গাড়িসহ ৭ শতাধিক গাড়ি আটকা


স্টাফ রিপোর্টার
প্রবল শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে চাঁদপুরের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হরিণা ও ইদগাহ বাজার ফেরি সার্ভিস। ঘন কুয়াশায় মেঘনা নদী আচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সব ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা পর ফেরি চলাচল কুয়াশা কেটে গেলে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। ফেরি সার্ভিস চলাচল বন্ধ থাকায় হরিণা ফেরি ঘাটে ৫ শতাধিক ও ইদগাহ ফেরি ঘাটে ২ শতাধিক গাড়িসহ ৭ শতাধিক দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি আটকা পড়ে।
সরজমিনে হরিণা ফেরিঘাট গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য গাড়ি ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় ফেরি ঘাট থেকে শুরু করে চান্দ্রা চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে দাড় করিয়ে রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম থেকে আসা গ্যাসের সিলেন্ডার বোঝাই ট্রাকের চালক (চট্টগ্রাম ট্রাক মালিক সমিতির আওতাধীন) মো. মোশারফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর তারা চাঁদপুর হরিণা ঘাটে এসে অবস্থান করছে। কিন্তু রাত ১০টার পর থেকে কোন ফেরি না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত ফেরির অপেক্ষায় তাদের থাকতে হয়েছে।
দিদার পরিবহনের যাত্রী বাসের চালক আব্দুল খালেক জানান, চট্টগ্রাম থেকে খুলনার উদ্দেশে আসা তাদের বাসটিতে প্রায় ৪০ জনের মতো যাত্রী রয়েছে। রাত ১১টায় হরিণা ফেরিঘাটে এসে যখন জানতে পারেন ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। তখন থেকে বাসের যাত্রীরা নিদারুণভাবে রাতযাপন করতে হচ্ছে।
পুরাণবাজার এলাকার এক ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার মরদেহ শরীয়তপুর জেলার সখিপুরে নেয়ার জন্য ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স যোগে নেয়ার জন্য রাত সাড়ে ৩টা থেকে হরিণা ফেরি ঘাটে অবস্থান করছে। দুপুর ১২টায় কাকলি নামক ফেরিটি ২টি বাস ও ৮টি ট্রাক এবং ২টি পিকআপ নিয়ে ইদগাহ ফেরি ঘাট থেকে হরিণা ফেরিঘাটে এসে পৌঁছায়।
এমনিভাবে দুপুর ১টা পর্যন্ত কুসুমকলি, কামিনী, করবী ও কুমারী নামক ৫টি ফেরি দুপুর ১টার মধ্যে হরিণা ঘাটে এসে ভিড়ে। প্রতিটি ফেরিতে প্রায় ১০টি করে পরিবহন নিয়ে পুনরায় ইদগাহ বাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
হরিনা ফেরিঘাট ব্যবস্থাপক ফয়সাল আলম চৌধুরী জানান, রাত থেকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে ১০টির মতো যাত্রীবাহী বাস এখোনে এসে আটকা পড়েছে। রাত ১০টা ফেরি চলাচল আমরা বন্ধ করে দেই। নদীতে ঘন কুয়ামার কারণে ফেরি চালকরা দিকভ্রষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ঈদগাহ বাজারে ফেরিগুলো সেখান তা বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর সকাল ১১টায় ফেরিগুলো যানবাহন নিয়ে হরিনা ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। তখনো নদীতে কুয়াশায় আচ্ছাদিত ছিল। যার ফলে ওপার থেকে এপার আসতে এক ঘণ্টার মতো সময় লেগে যায়।
তিনি আরো জানান, হরিনা ঘাটে প্রায় পাঁচ শতাধিক ও ঈদগাহ ঘাটে ২ শতাধিক যানবাহনসহ মোট ৭ শতাধিক যানবাহন ঘন কুয়াশার কারণে আটকা পড়েছে। তবে আমরা ফেরি সার্ভিস চলাচল শুরু করায় যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে পারাপারের জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
এদিকে দক্ষিণাঞ্চল থেকে চাঁদপুরে হয়ে ঢাকা অভিমুখী বেশ কিছু লঞ্চ ঘন কুয়াশার কারণে নদীতে নোঙর করে রাখা হয়েছে। মীরগঞ্জ থেকে ঢাকা উদ্দেশে ছেড়ে আসা আঁচল-৬ লঞ্চটি রাত ২টায় চাঁদপুর ঘাটে পৌঁছার কথা থাকলেও তা পৌঁছেছে দুপুর নাগাদ। পয়সারহাট থেকে ঢাকা অভিমুখী আওলাদ-২ লঞ্চটি রাত ৩টায় চাঁদপুর ঘাটের পৌঁছার কথা থাকলেও তা পৌঁছেছে সকাল ৯টায়। পটুয়াখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা রাসেল-৫ লঞ্চটি রাত ২টায় চাঁদপুর ঘাটে যাত্রাবিরতির কথা থাকলেও তা এসে পৌঁছছে সকাল ১০টায়। বরিশাল থেকে ঢাকা অভিমুখী মানিক-১ লঞ্চটি রাত ২টায় চাঁদপুর ঘাটে আসার কথা থাকলেও তা এসেছে সকাল সাড়ে ৯টায়।