চাঁদপুরে নিষিদ্ধ পলিথিনে হাট-বাজার সয়লাব

্রশাসনিক নজরদারি না থাকায়



ইল্শেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুরের শহর কিংবা হাট-বাজার সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন। এতে করে এই অপচনশীল পলিথিন ব্যবহারে পরিবেশ প্রতিনিয়ত হুমকির শিকার হচ্ছে। বাজারে পলিথিন নিষিদ্ধ থাকলেও আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় এর ব্যবহার বাড়ছে দিনদিনই। যদিও শহরের কিছু শপিংমলে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করতে দেখা যায়। তবে শহরের ছোট কিংবা মাঝারি দোকানগুলোতে পলিথিন হারহামেশেই ব্যবহার হচ্ছে।
এদিকে চাঁদপুরের পুরানবাজার হয়ে পুরো জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে নিষিদ্ধ পলিথিন। আবার কুমিল্লা হয়ে হাজীগঞ্জে এবং নারায়নগঞ্জ থেকে নৌপথে মতলবে সয়লাব হচ্ছে পলিথিন। এসবই চোরাইপথে আমদানিকৃত পলিথিন বলে জানা গেছে। ব্যবসায়ীরা এসব নিষিদ্ধ পলিথিন চোরাইপথে ভারত থেকে আমদানি করে থাকে বলে জানা গেছে। ভারতীয় পলিথিন টেকসই, এজন্য ব্যবহার বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পুরাণবাজারের অধিকাংশ দোকানেই এসব পলিথিনের কেজি বিক্রি হয় ৩শ’ টাকা আর দেশি পলিথিন ২শ’ ২০ টাকা। আর এখান থেকেই নিষিদ্ধ পলিথিন চলে যায় উপজেলাসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে।
যদিও খুচরা ব্যবসায়ীরা জানায়, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় একদিকে চোরাইপথে আমদানি হচ্ছে, অন্যদিকে যত্রতত্র পলিথিন ব্যবহারে হুমকির মুখে পড়ছে আমাদের পরিবেশ। তবে প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে নামেমাত্র অভিযান পরিচালনা করলেও নিয়মিত এই নিষিদ্ধ পলিথিনের বিষয়টি নজরদারিতে রাখছে না। পাশাপাশি চোরাইপথে আমদানিকৃত পলিথিন বন্ধে নেই কোন অভিযান কিংবা পদক্ষেপ।
চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহলে রহমান বলেন, বাজার থেকে কোনো কিছু কিনলেই নিষিদ্ধ পলিথিনের মধ্যেই ব্যবসায়ীরা হাতে ধরিয়ে দেয়। অনেকটাই বাধ্য হয়েই ক্রেতা হিসেবে নিতে হয়। এরপর প্রয়োজন শেষ হওয়া মাত্রই তা ফেলে দেয়া হয় যত্রতত্র। এই শিক্ষার্থীর মতে, পলিথিন যেহেতু পচনশীল দ্রব্য নয়, তাই এটা থেকে যায় মাটিতে। পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও আইনের প্রয়োগ না থাকায় ব্যবহার বাড়ছে দিনদিনই অভিযোগ ঐ শিক্ষার্থীর।
চাঁদপুর বিপণীবাগ বাজারের ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বলেন, যেকোনো দোকানে ছোট আকারের পলিথিনের ব্যবহার এখন বেশি। ছোট পলিথিনের ব্যবহার না থাকলে মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে। তবে শহরের বড় মার্কেটগুলোতে বড় পলিথিনের ব্যবহার। এসব পলিথিন চোরাইপথে আমদানি করা। সাধারণ মানুষ পলিথিনের ব্যবহার শেষে ফেলে দেয়। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পরিবেশকে হুমকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
তবে পালবাজারের আরেক খুচরা ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, বাজারে বড় এবং ছোট দুই ধরনের পলিথিন পাওয়া যায়। প্রত্যেকটি দোকানেই রয়েছে পলিথিনের ব্যবহার। তবে নিষিদ্ধ পলিথিন দেশেই উৎপাদন হয়। যার জন্য দাম একটু বেশি দেশী পলিথিনের। সেজন্য বাজারের পাইকারি বড় ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে চোরাইপথে আমদানিকৃত পলিথিন বাজারজাত করে থাকেন। বর্তমানে বাজারে যেসব পলিথিনের ব্যবহার হচ্ছে এসব পলিথিন ১শ’ গ্রাম ২৫ টাকায় বিকিকিনি হয়ে থাকে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি পলিথিন দ্রুত ছিড়ে যায়। ভারি মালপত্র বহন করা যায় না। এজন্য ভারতীয় মজবুত পলিথিন ব্যবহার বেশি হয়। এসব পলিথিনে ৫ কেজি পর্যন্ত মালামাল বহন করা যায়।
এদিকে বাজার মনিটরিং কিংবা অভিযান পরিচালনা করা সরকারি প্রতিষ্ঠান জেলা মার্কেটিং অফিস অনেকটাই নীরব। মার্কেটিং অফিস মনে হয় দেখেও দেখছে না। চাঁদপুরে নিষিদ্ধ পলিথিনের এমন ব্যবহার আইনগত ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষ হতাশা প্রকাশ করছেন। যদিও মাঝে মাঝে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
তবে সচেতন মহল বলেছে, জেলা আইন-শৃঙ্খলা সভার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহাররোধে কার্যকরী পদক্ষেপের এখনই প্রয়োজন।