চাঁদপুরে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

পহেলা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ
————মোহাম্মদ শওকত ওসমান

এস এম সোহেল
চাঁদপুরে পহেলা বৈশাখ উৎযাপনকল্পে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শওকত ওসমান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ পালন বাঙালি সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আবহমান কাল ধরে বাঙালি অধ্যুষিত জনপদে সার্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক এ উৎসবটি পালিত হয়ে আসছে। ১৪১৭ বঙ্গাব্দ থেকে বাংলা নববর্ষ জাতীয় ভাবে উদ্যাপিত হয়ে আসছে। বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার উৎসবে নানা আয়োজনের মধ্যে বাংলাদেশের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ মানবসভ্যতার প্রতিনিধিত্বশীল সংস্কৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী এবছর বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ এর কার্যক্রম একদিন করা হবে। সকাল থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে বৈশাখী উৎসবের কার্যক্রম সমাপ্ত করতে হবে।
পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে ব্যাপক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো হলোঃ সকাল ৯টায় হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে বৈশাখী আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রাটি মহিলা কলেজ সড়ক হয়ে হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় শপথ চত্বর, পালবাজার এলাকা হয়ে প্রেসক্লাব সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে গিয়ে সমাপ্ত হবে। বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার সকাল সাড়ে ৯টায় উদ্বোধন করা হবে। বৈশাখী উৎসব মঞ্চে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পল্লীগীতি, ভাটিয়ালি ও বাওয়াইয়াসহ দেশীয় গান অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সকাল ১১টায় বড় স্টেশন মোলহেডে দেশীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ওই স্থানে প্রীতি হা ডু ডু প্রতিযাগিতা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় করা হবে। জেলা তথ্য অফিসের ব্যবস্থাপনায় বড় স্টেশন মোলহেডে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে বৈশাখ ও দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চলচিত্র প্রদান করা হবে। এছাড়া সুবিধাজনক সময়ে হাসপাতাল, কারাগার ও সরকারি শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হবে। জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঝাকজমকপূর্ণভাবে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করতে হবে। শোভাযাত্রাকে ঝাঁকজমক পূর্ণ করার লক্ষ্যে জেলা পুলিশের বাধক দল, স্কাউট বাদক দল অংশগ্রহণ করতে হবে। বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলার উদ্বোধনের নিমিত্তে প্রেসক্লাব সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর তীর ভূমিতে মঞ্চ নির্মাণ করার জন্য চাঁদপুর পৌরসভাকে বলা হয়ছে। অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল স্পীডবোর্টযোগে নদীতে অবস্থান করতে হবে। বাঙালি সংস্কৃতির সাথে সংগতিপূর্ণ নয় এমন কোন নাচ বা গান পরিবেশন না করার সিদ্ধান্ত হয়। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ কে বরণ করার জন্য স্ব স্ব উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। সে সকল প্রতিষ্ঠানকে অনুষ্ঠানের স্থান এবং সময়সূচি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্ব স্ব ব্যানার নিয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য অংশগ্রহণকারীর প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে বর্ণের সমারোহ ও বৈচিত্রের ভিত্তিতে প্রথম থেকে পঞ্চম স্থান অধিকারীদেরকে পুরস্কৃত করা হবে। বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে মেলা প্রাঙ্গনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন মেলায় প্রবেশ ও বাহির পথ ভিন্ন করা হবে।
বিগত বছরের কার্যবিতরণী তুলে ধরেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুন্নাহার। এসময় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কের) মো. জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, এনএসআই উপ-পরিচালক এ বি এম ফারুক আহমেদ, স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, প্রবীন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জীবন কানাই চক্রবর্তী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদ পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মন চন্দ্র সূত্রধর, চাঁদপুর পৌরসভার সচিব মো. আবুল কালাম ভূঁইয়া, জেলা কালচারাল অফিসার সৈয়দ মুহাম্মদ আয়াজ মাবুদ, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট জেলা শাখার সভাপতি তপন সরকার প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌ. ড. সিরাজুল ইসলাম, জেলা মার্কেটিং অফিসার এন এম রেজাউল ইসলাম, চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তাজ বিল্লাহ, জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপ-পরিচালক আবু খালেদ মো. সাইফ উল্লাহ, ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. খলিলুর রহমান, জেলা সমাজ সেবা উপ-পরিচালক রজত শুভ্র সরকার, আক্কাছ আলী রেলওয়ে একাডেমীর প্রধান শিক্ষক মো. গোফরান হোসেন, হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা সাফি বন্যা, ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা কামাল, গুয়াখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাছিনা আক্তার, ৩নং বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা সুলতানা, ৩নং বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গীতা রানী রায়, লেডী দেহলভী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী আবদুল হক, আক্কাছ আলী রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুবিনা রহমান, দক্ষিণ গুনরাজদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলানা পারভেীন, গুনরাজদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আল মামুন, জেলা স্কাউট সম্পাদক অজয় ভৌমিক, জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেল, শিল্পকলা একাডেমীর সদস্য রূপালী চম্পক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন বাঁশি স্মৃতি সংসদের সভাপতি অজিত দত্ত, অনন্যা নাট্য গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মৃনাল সরকার, সাংস্কৃতিককর্মী রুমা সরকারসহ আরো অনেকে।