চাঁদপুরে ফিরতে চায় না জয়ন্তীর পরিবার

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
চাঁদপুর শহরে দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার নিহত স্কুল শিক্ষক জয়ন্তী চক্রবর্তী (৪৫) হত্যার কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপরে জয়ন্তীর স্বামী অলক গোস্বামী অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। গতকাল সোমবার বিকালে পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ নিয়ে তাদের স্থায়ী বসবাসের গ্রাম চট্টগ্রামের মিরসরাই নিয়ে গেছেন। সেখানেই জয়ন্তী চক্রবর্তীর সৎকার হবে বলে নিশ্চিত করেছেন নিহতের ছেলে প্বার্থ সারথী গোস্বামী।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাসিম উদ্দিন জানান, গতকাল সোমবার বেলা ২টায় নিহত শিক্ষিকার স্বামী অলক গোস্বামী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনুপ চক্রবর্তীকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত খুনের রহস্য উদঘাটন করা যায়নি। তবে তদন্ত চলছে বলে তিনি জানান।
জয়ন্তী চক্রবর্তী চাঁদপুর ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তার স্বামী অলক গোস্বামী চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্চমান সহকারী পদ থেকে সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন। তার ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে অনন্যা গোস্বামী এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। ছোট মেয়ে তম্বী গোস্বামী এবার এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
একমাত্র ছেলে প্বার্থ সারথী গোস্বামী নটরডেম কলেজে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। জয়ন্তী চক্রবর্তীর বাবার বাড়ি শাহরাস্তি উপজেলার উল্লাসর গ্রামে এবং স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। তবে তারা স্থায়ী চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার কমলদহ গ্রামে বসবাস করছেন।
জয়ন্তী খুন হওয়ার কারণ ও পারিবারিক অবস্থা জানতে গতকাল সোমবার বিকালে তার স্বামী অলক গোস্বামীর মুঠোফোনে ফোন দিলে ফোন ধরেন ছেলে প্বার্থ সারথী। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মায়ের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি মিরসরাইয়ের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছি। সেখানেই সৎকার সম্পন্ন করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কি কারণে এবং কেন মাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তা, জানি না। বাসায় চুরি-ডাকাতির উদ্দেশ্যে গেলে টাকা পয়সা ও মালামাল নিয়ে যেতো। সব কিছুই ঠিক আছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা আর চাঁদপুরের সাথে সম্পর্ক রাখতে চাই না। কারণ, চাঁদপুর আমার মাকে কেড়ে নিয়েছে।
নিহত শিক্ষকের পরিবার ও থানায় মামলা সূত্রে জানা গেছে, রোববার শহরের ষোলঘরস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্টাফ কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলায় জয়ন্তী চক্রবর্তীকে দুর্বৃত্তরা গলা কেটে হত্যা করে। জয়ন্তী চক্রবর্তী স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে রোববার একাই বাসায় ছিলেন। তার স্বামী সকাল বেলায় ছোট মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল যেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বলেন, এখন পর্যন্ত খুনের রহস্য উদঘাটন করা যায়নি। পুলিশ জয়ন্তী হত্যা রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।
এদিকে জয়ন্তীর হত্যাকারীদের দ্রুত সনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবিতে সোমবার বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতি মানববন্ধনের আয়োজন করে। কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদার, চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল বাসার, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফররুখ আহমেদ, জেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি ওমর ফারুক, ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল বাবুল, বিষ্ণুপুর আজিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা খোদেজা বেগম লাকি, হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইসমত আরা সাফি বন্যা প্রমুখ।

২৩ জুলাই, ২০১৯।