চাঁদপুরে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ

নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি

চাঁদপুরে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে লঞ্চ টার্মিনাল ফাঁকা। -ইল্শেপাড়

স্টাফ রিপোর্টার
সারা দেশের মতো নদীবন্দর চাঁদপুরেও নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে সদরঘাটসহ ১০টি নৌ-রুটে চাঁদপুর থেকে যাত্রীবাহী কোনো লঞ্চ এবং পণ্যবাহী জাহাজ চলেনি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকার কারণে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দ্যেশে আসা যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। ফলে লঞ্চ না পেয়ে তারা বাড়ি ফিরে যান। বেশ কয়েকজন অসুস্থ রোগীকেও টার্মিনালে অবস্থান করতে দেখা যায়। তাদের স্বজনরা জানান, আজই রাজধানী ঢাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর কথা ছিল। কিন্তু লঞ্চ না ছাড়ার কারণে এসব রোগীর জীবন বিপন্ন হওয়ার পথে। আবার অনেকেই বিদেশ যাত্রী। সন্ধ্যা এবং রাতেই তাদের ফ্লাইট হওয়ার কথা রয়েছে।

চাঁদপুরে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে নৌযানগুলো মাঝনদীতে নোঙর করে রাখা হয়। -ইল্শেপাড়

এদিকে শ্রমিকদের কর্মবিরতি ঘোষনার পর থেকে চাঁদপুর থেকে নারায়নগঞ্জ ও ঢাকা রুটে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। অভ্যন্তরীণ রুটের সব ধরনের নৌযানগুলো মাঝনদীতে নিয়ে নোঙর করে রাখা হয়েছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে চাঁদপুর ও দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষ্মীপুর, রায়পুর, নোয়াখালীসহ বেশকিছু এলাকার মানুষ চাঁদপুর-ঢাকা-নারায়নগঞ্জ নৌ-রুটে লঞ্চে যাতায়াত করে। ভোরে চাঁদপুর নৌ টার্মিনালে এসে অনেক মানুষ পড়েছেন বিপাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে লঞ্চ না পেয়ে বাস কিংবা বিকল্প সড়ক পথে গিয়েছেন গন্তব্যে।
চাঁদপুর আঞ্চলিক নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি হারুনুর রশীদ জানান, সারাদেশের মতো চাঁদপুরে শৃঙ্খলভাবে শ্রমিকদের ১১ দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে। আমাদের এসব দাবি-দাওয়া পূরণ না হলে কর্মবিরতি লাগাতার চলবে।