চান্দ্রায় বিতর্কিত বক্তা দিয়ে মাহফিলের প্রস্তুতি নেয়ায় থানায় অভিযোগ


স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নে বিতর্কিত বক্তা ড. মুহাম্মদ এনায়েতুল্লা আব্বাসী ওয়া সিদ্দিকী জৈনপুরীকে দিয়ে মাহফিল করার প্রস্তুতি নেয়ায় এলাকাবাসী সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। গত মঙ্গলবার এলাকাবাসীর পক্ষে স্বপন পাটওয়ারী নামে এক ব্যক্তি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উভয় পক্ষকে গতকাল বুধবার মডেল থানায় ডেকে এনে বিষয়টির সমাধান করা হলেও বৃহস্পতিবার এলাকায় সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।
ইসলাম ও ছারছীনার দরবার শরীফ এবং পীর সাহেবের বিরুদ্ধে আপত্তিকর বক্তব্য দেয়ার আশংকায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রসঙ্গে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নে মদনা গ্রামের নেছারাবাগ সিদ্দিকিয়া দারুসুন্নাত মদীনা মার্কেট মাদরাসা ময়দানে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা আল্লামা মুফতী ড. মুহাম্মদ এনায়েতুল্লা আব্বাসী ওয়া সিদ্দিকী জৈনপুরী। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে বক্তব্যকালে ছারছীনা ও চরমোনাই হুজুরের নামে কাফের আখ্যায়িত করেন। যার প্রমাণ ইউটিউবে রয়েছে। ফলে এলাকার ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং ঐ মাহফিলের কারণে দু’পক্ষের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।
এলাকাবাসীর পক্ষে মো. স্বপন পাটওয়ারী, আ. আজিজ সুরুজ পাটওয়ারী, আ. আউয়াল, বিল্লাল পাটওয়ারী, শাহ আলম জমাদার জানায়, আমরা কোন বিতর্কিত বক্তা এ ইউনিয়নে দেখতে চাই না। ড. মুহাম্মদ এনায়েতুল্লা আব্বাসী ওয়া সিদ্দিকী জৈনপুরী এই ইউনিয়নে আসলে সাধারণ মানুষ তা মেনে নেবে না।
এ বিষয়ে নেছারাবাগ সিদ্দিকীয়া দারুসসুন্নাত কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মাও. মুহাম্মদ সামছুল আলম ছালেহী জানান, আমরা ২০০১ সাল থেকে মাহফিল করছি। আমাদের মাহফিল দু’দিন ব্যাপী ছিল। কিন্তু এবার তা আমরা একদিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বৃহস্পতিবার মাহফিলের প্রধান অতিথি ড. মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ওয়া সিদ্দিকী জৈনপুরীকে কিছু লোক বাজে ধরনের মন্তব্য করছে এবং মাহফিলের প্রচার করার মাইক আটকে রেখেছে। আবার মাহফিলের পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেট ছিড়ে ফেলেছে। প্রধান অতিথিকে বাদ দিয়ে মাহফিল করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে আমরা বৃহস্পতিবার এলাকায় প্রধান অতিথিকে বাদ দিয়ে মাহফিল করবো। এখানে যেন কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেই জন্য আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করি।
মাহফিলের মাইকিংকারী মুহাম্মদ সাকিবুল হাসান জানান, সিএনজি দিয়ে মাইকিং করার সময় রবিন ও কাউসার নামের দুই জন গাড়িতে থাকা ২টা মাইক, ২টা মাইক্রোফোন, একটি ব্যাটারী ও মেশিন নিয়ে যায় এবং আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়।
ইউপি চেয়ারম্যান খান জাহান আলী কালু জানান, মাহফিল নিয়ে এলাকায় দু’পক্ষের উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানাই।
এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হারুনুর রশিদ জানান, অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাসিমের নির্দেশে উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে আনা হয়। পরে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে এবং মাহফিলের অনুমতির জন্য বলা হয়।