জেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা


অনুমতি ছাড়া ওয়াজ করা যাবে না : জেলা প্রশাসক
স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর জেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুর শহরের সবচেয়ে খারাপ দিক হচ্ছে বিভিন্ন ওয়াজে যে ধরনের মাইক ব্যবহার করা হয় এতে করে শব্দ দূষণে শহরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। এ শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটা সময় বেঁধে দেয়া প্রয়োজন। এছাড়া ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলের মাধ্যমে বড় ধরনের চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। যারা ওয়াজের আয়োজন করেন তারা প্রশাসনিকভাবে অনুমতি আনতে গেলে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজের কথা বলে ওয়াজের অনুমতি নেয়। ওয়াজের নামে চাঁদা তুলে ওই কমিটি ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়ে যাচ্ছে। এরা সাধারণ মানুষের কোন কথাই ভাবে না। বর্তমান সরকারের ইমেজ ও সরকার দেশবাসীর প্রতি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে। সরকার যা বলছেন তাই করছেন। এতে করে বাংলাদেশের উন্নয়ন হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ সরা বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে। যে মন্দ কাজ করছে তার কোন দল নেই। আসুন সবাই জাতির জনকের সোনার বাংলা গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি। এদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট করা প্রয়োজন। কোন বিষয়ের বিরুদ্ধে ওয়াজ করবে তাও আগে জানতে হবে। অনুমতি ছাড়া ওয়াজ করা যাবে না।
তিনি আরো বলেন, গত বছরটিতে চাঁদপুরের আইন-শৃঙ্খলা ভালোভাবেই কেটেছে। নতুন বছরটিতে আরো ভালোভাবে কাটাতে চাই। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে রোগীরা পানি ব্যবহার করতে পারছে না। পানিতে আয়রনের পরিমাণ এত বেশি যে তা নিরসন করা প্রয়োজন। জাটকা রক্ষায় সবাই কষ্ট করছে। বড় স্টেশন মোলহেডে এক শ্রেণির চাঁদাবাজ গ্রামের তরুণ-তরুণীদের টার্গেট দিয়ে থাকে। ওই সংঘবদ্ধ চক্রটি গ্রামের সহজ-সরল তরুণ-তরুণীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে থাকে।
বিগত সভার কার্যবিবরণী পাঠ করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।
এ সময় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. জিহাদুল কবির, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী।
উপস্থিত ছিলেন এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জি.এম মজিবুর রহমান, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আফরোজ, হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী বেগম, কচুয়া উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা নিলীমা আফরোজ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।