জোরপূর্বক কেন্দ্র দখলের আশংকা করছেন আনারাস মার্কার প্রার্থী কালু ভূঁইয়া

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জোরপূর্বক কেন্দ্র দখলের আশংকা করেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ মিজানুর রহমান কালু ভূঁইয়া। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবে জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজন আমার কর্মী-সমর্থকদের প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। উস্কানিমূলক দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্টের পাঁয়তারা করছেন। এ কারণে আমার নির্বাচনী গণসংযোগ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়নের সবকটি কেন্দ্র জোরপূর্বক দখলের আশংকা করছেন।
কালু ভূঁইয়া বলেন, এসব অনিয়মের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তর্প্বূক দোষীদের আইনের আওতায় আনলেই চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। উপজেলাবাসী নিবিঘেœ ভোট দিতে পারলে আমি আনারস মার্কা প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি এবার উপজেলা নির্বাচন বর্জন করায় আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক, উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলের শীর্ষ নেতাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েই আমি চাঁদপুর সদর উপজেলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি। আমার প্রতিক আনারস। তাই আমাকে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছি। তাছাড়া দল থেকেও আমাকে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। চাঁদপুর সদর উপজেলা ও এই শহরের বাসিন্দা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আপনারা আমাকে চিনেন ও জানেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে আমার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। পরবর্তীতে আমি চাঁদপুর শহর যুবলীগের সভাপতি, জেলা যুবলীগের নির্বাচিত সভাপতি এবং বর্তমানে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। ২০০১ সালের দুঃসময়সহ দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সুদীর্ঘকাল ধরে আমি যুবলীগ তথা আওয়ামী লীগের কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রয়েছি। প্রতিটি জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমি দলীয় প্রার্থীর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি।
আরো বলেন, এছাড়া পারিবারিকভাবেও আমি আওয়ামী পরিবারের একজন সদস্য। আমার মামা মরহুম আঃ মালেক ভূঁইয়া মুক্তিযুদ্ধেও সংগঠক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা। আমার বড় ভাই মরহুম শফিকুর রহমান ভূঁইয়া ও মেঝ ভাই রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আরেক ভাই দলিল ভূঁইয়া জেলা শ্রমিক লীগের সদস্য, আরেক ভাই অ্যাড. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। আওয়ামী লীগ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের সাথে আমার পরিবারের সম্পৃক্ততা সব সময়ের। সুতরাং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি দৃড়ভাবে বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘গ্রাম হবে শহর’ এ শ্লোগান বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে আমি চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছি। আগামী ২৪ মার্চের নির্বাচনে আল্লাহর রহমতে জনগনের ভোটে বিজয়ী হতে পারলে আমি চাঁদপুর সদর উপজেলাকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, ইভটিজিংমুক্ত একটি আধুনিক ও উন্নত উপজেলা উপহার দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু পাটওয়ারী, সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি নাজমুল পাটওয়ারী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হোসেন ভূঁইয়াসহ শতাধিক নেতাকর্মী।
চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শহীদ পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক্স মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।