ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মূল সড়ক মডেল সড়কে রূপ নিচ্ছে

মেয়র মাহফুজের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অবশেষে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
যে সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত ফরিদগঞ্জ পৌরবাসীর কাছে অভিষাপ বা বিষফোঁড়া হিসেবে চিহ্নিত ছিল। যে সড়কের ভয়ে পৌর নাগরিক বা অন্যান্যরা অন্যপথে বা ফরিদগঞ্জ সদরে আসতে অনিহা করতো। যে সড়কে প্রতিদিন ছোট বড় দুর্ঘটনা ছিল স্বাভাবিক বিষয়। আগের জনপ্রতিনিধিদের কাছে যে সড়কটি ছিল কৌশলগত রাজনীতি। দীর্ঘদিন পরে মেয়র মাহফুজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অবশেষে সেই সড়কের আরসিসি বা উন্নত পাকাকরণের মধ্যে দিয়ে মডেল সড়কে রূপ নিচ্ছে। মূল সড়ক ও তার তিনটি শাখা সড়কসহ মোট ৯শ’ ৯৫ মিটার ৪ পার্টে উন্নয়ন কাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। নগর উন্নয়নের প্রকল্প-২ এর অর্থে এই কাজটি জুলাইয়ের শেষের দিকে শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে পুরোদমে ব্যাপক শ্রমিক লাগিয়ে মেসার্স আব্দুল আউয়াল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে।


মেয়র মাহফুজুল হক জানান, অতীতে যারা এই পৌরসভার দায়িত্বে ছিলেন তাদের উদাসীনতা আর এই এলাকার প্রভাবশালী সাবেক জনপ্রতিনিধিদের অপরাজনীতির একটি কৌশল ছিল ফরিদগঞ্জ পৌরসভার এই জনগুরুত্বপূর্ণ এই মূল সড়কটি। আগের পৌরসভার দায়িত্বশীলরা কথিত সড়ক সংস্কার বা উন্নয়নের নামে নিজদের পকেট ভারী বা লুটপাট করেছে। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর বেশ কয়েকবার সড়কটির উন্নয়নের পরিকল্পনা হাতে নিলেও অপশক্তির কাছে আমার এই উদ্যোগের নথি বা ফাইল গায়েব করে ফেলতো। অবশেষে জননেত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয়বার ক্ষমতার ফলে এবং স্বাধীনতার পর প্রথমবারে নৌকা প্রতীক জয়লাভ করে আমি মেয়র হওয়ায় এবং আমরা শক্ত অবস্থানে সেই অপ-শক্তিকে পরাস্ত করে পৌরবাসীর দোয়ায় এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির কাজ শুরু করতে পেরেছি।
তিনি বলেন, এই সড়কটি এআর হাইস্কুল থেকে ভূমি অফিস, বাসস্ট্যান্ড লিংক সড়ক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লিংক সড়ক ও পৌর বাজারের পিছনের গলিসহ ৪-পার্টে নগর উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে উন্নত শহরের মতো মোট ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় ব্যয়ে কাজটি আরসিসি ঢালাইসহ সম্পূর্ণ হবে। মহান আল্লাহর সহায়তায় এবং পৌরবাসী ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় এই কাজ জুলাই মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে আমার বিশ্বাস।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিএম মাহমুদুন্নবী জানান, মেয়র মহোদয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলীর সহায়তায় ও আমাদের জনবল নিয়ে সার্বক্ষণিক কাজটি দেখাশোনা করছি, যেন কাজের কোন ত্রুটি না হয়। প্রাক্কলন ব্যয় এবং গুণগতমান সম্পন্ন রাখার জন্য আমরা শতভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কাজের গতি এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালের সরবরাহ ঠিক থাকলে ইনশাআল্লাহ জুলাই মাসের মধ্যে এই কাজটি আমরা শেষ করতে পারবো।
এদিকে দীর্ঘদিন পর পৌরসভার এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় পৌর নাগরিক ও শহরমুখী মানুষের মধ্যে একটা প্রাণচাঞ্চালতা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা সড়ক উন্নয়নের ফলে পৌর বাজারের হারিয়ে যাওয়া সেই বাণিজ্যিক গৌরবতা আবারও ফিরে আসবে। একই সাথে প্রায় দুই যুগ ধরে ক্ষত-বিক্ষত সড়কটির আধুনিক রূপে মডেল সড়কে রূপ দেয়ার কাজ শুরু হওয়ায় পৌর জনগণ ও উপজেলাবাসী মেয়র মাহফুজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

৩ জুলাই, ২০১৯।