বাগাদী গণি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি’র ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত টাকা আদায়

এস এম সোহেল
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী গণি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি চলাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক এম কামরুল হোসেন। এ নিয়ে অভিভাবক ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। আবারো যেকোন মুহূর্তে ঘটতে পারে ২০১৬ সালের ২৯ আগস্ট ২০ টাকা ফি কম দেয়ার কারণে শিক্ষকদের অপমানে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সাথী আক্তার আত্মহত্যার মতো ঘটনা।
সরেজমিনে বাগাদী গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে গেলে বেরিয়ে আসল অনেক গোপন তথ্য। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- এসএসসি’র ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত টাকা আদায়। এ এলাকার শিক্ষার্থীরা অধিকাংশ গরিব ও অসহায়। অভিভাবকরা বেশিরভাগ ক্ষেতে-খামারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তার উপরে সন্তানদের স্কুলের বেতন-ফিসহ অন্যান্য বিষয়ে খরচ চালাতে তাদের কষ্ট হয়। প্রধান শিক্ষক এম কামরুল হোসেন নিজেদের ইচ্ছামাফিক গায়ের জোরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এসএসসি ফরম ফিলাপে ফি নির্ধারণ করা হয় ৩৪০০-৩৫০০ টাকা। কিছু শিক্ষার্থী ফরম ফিলাপের টাকাও জমা দেয়। অতিরিক্ত ফি আদায় নিয়ে অভিভাবকরা উত্তেজিত হয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। পরে এক পরীক্ষার্থী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মঈনুল হাসানকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমাকে বিষয়টি দেখার জন্য নির্দেশ দেন। পরে এসএসসি ফরম ফিলাপে ফি নির্ধারণ করা হয় ২০০০ টাকা, যা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ে প্রায় ৪০০ টাকা বেশি। অথচ আগে বেশ কিছু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এসএসসি ফরম ফিলাপ বাবদ ৩৪০০-৩৫০০ টাকা নেয়া হয়। অতিরিক্ত নেয়া টাকা এখনো ফেরত দেয়া হয়নি বলে জানান অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এম কামরুল হোসেনের জানান, নিয়মমাফিক বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে। এসএসসি’র ফরম ফিলাপে ফি বেশি নেয়ার বিষয়ে বলেন, বোর্ডের ফি ১৬শ’ টাকা, আমরা নিয়েছি ২ হাজার টাকা। অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়ে বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অনুদান হিসেবে ৪শ’ টাকা নেয়া হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক এম কামরুল হোসেন অন্য অরেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সামনে সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বলেন, এসব বিষয়ে আপনারা সংবাদ প্রকাশ করলে আমি আপনাদের এবং পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করবো।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মঈনুল হাসান এ বিষয়ে বলেন, বেশ কিছুদিন আগে বাগাদী গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক পরীক্ষার্থী আমাকে ফোন দিয়ে জানায় তাদের বিদ্যালয়ে এসএসসি ফরম ফিলাপে ফি ৩৪০০-৩৫০০ টাকা করে আদায় করছে। পরে আমি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমাকে বিষয়টি দেখার জন্য বলি। কিছুক্ষণ পরে আবার কিছু শিক্ষার্থী জানান, এসএসসি ফরম ফিলাপে ফি পুনঃনির্ধারণ করা হয় ২০০০ টাকা। কিন্তু বেশকিছু শিক্ষার্থী ফরম ফিলাপ বাবদ ৩৪০০-৩৫০০ টাকা জমা দেয়। তাদের অতিরিক্ত নেয়া টাকা এখনো ফেরত দেয়া হয়নি বলে সে জানায়। আমি বিষয়টি দেখার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমাকে দায়িত্ব দেই।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে বাগাদী গনি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সাথী আক্তার জেএসসির মডেল টেস্ট পরীক্ষার নির্ধারিত ফি বাবদ ২৮০ টাকার স্থলে ২০ টাকা কম জমা দেয়। মাত্র ২০ টাকা কম দেয়ায় ঐদিন তাকে বিদ্যালয়ের বাইরে রোদের মধ্যে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রেখে শাস্তি দেয়া হয়। পরদিন সকালে সাথী আক্তার পরীক্ষা দেয়ার জন্য স্কুলে গেলে শিক্ষকরা তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। পরে সাথী আক্তার বাড়িতে গিয়ে শিক্ষকদের অপমানে রাগে ক্ষোভে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এলাকাবাসীর দাবি- আর যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।