মতলব উত্তরের মা’সহ দুই শিশু কারাগারে!

প্রবাসীর পারিবারিক কলহের মামলায়

স্টাফ রিপোর্টার
ভাই আমার মামলাবাজ পিতা ও বোন থেকে আমার স্ত্রী আর সন্তানকে বাঁচান। আমি প্রবাসে থেকে কোনো কাজে হাত দিতে পারছি না। আমার দুধের শিশুরা কারাগারে কিভাবে যেনো দিন কাটাচ্ছে আমি জানতে পারছি না। বাবার মামলার ভয়ে বাড়ির কেউ আমাকে পরিবারের খোঁজ দিচ্ছে না।
এভাবেই কারাবন্দি দু’কন্যা সন্তান আর স্ত্রীকে মুক্ত করার আকুতি জানিয়েছেন মতলব উত্তর উপজেলার সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ আলী। দীর্ঘ ১৩ বছর প্রবাস জীবন পার করা এ যুবকের দু’কন্যা আর অনাথ স্ত্রী নিয়ে জীবন সংসার। বিপদে পড়লে অভিভাবক হিসেবে যাদেরকে পাশে পাওয়ার কথা, সেখানে তারাই কিনা আজ তার স্ত্রী-সন্তানকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
অন্যাথ স্ত্রীর দিক থেকে অভিভাবকের হাত বাড়ানোর মতো কেউ নেই। এরমধ্যে বাবা ভিটেবাড়িসহ সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন ৫ বছর ধরে স্বেচ্ছায় স্বামী পরিত্যক্তা বোনের নামে। যে বোনের বিরুদ্ধে এরইমধ্যে একাধিকবার অনৈতিক কাজের জন্যে গ্রাম ও ইউনিয়ন পরিষদে শালিস হয়েছে।
কতোটো বিভিষিকাময় জীবন হলে এ প্রবাসী বাবাকে ‘মামলাবাজ’ আর সহোদর বোনের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকা-ের অভিযোগ করেছেন, অনুসন্ধানে তার সত্যতা বেরিয়ে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘মামলাবাজ’ দাদার মামলার মারপ্যাচে প্রবাসীর স্ত্রীসহ দু’শিশু কন্যা ১৫ দিন ধরে চাঁদপুর কারাগারে রয়েছেন। কারাবন্দি স্ত্রী মুক্তা বেগমের দু’সন্তান ৫ বছর বয়সী আছিয়া ও ৩ বছর বয়সি নুহা আক্তারে কারাবাসের ঘটনায় তাদের ছবিসহ সোস্যাল মিডিয়ায় প্রবাসীদের বেশ কয়েকটি গ্রুপে নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, মতলব উত্তর উপজেলার পূর্ব ফতেহপুর ইউনিয়নে সাহাবাজাকান্তি গ্রামের বেপারীর বাড়ির বাসিন্দা নুরুল হক বেপারী ওই অঞ্চলের প্রায় অর্ধশত মামলার বাদী।
তাঁর ছেলে মোহাম্মদ আলী ছুটি শেষে গ্রামে বাড়ি থেকে প্রবাসে চলে যাওয়ার পর গেলো ২৬ ফেব্রুয়ারি পারাবারিক কলহের এক পর্যায়ে পুত্রকে ঘরে না পেয়ে গর্ভবতী পুত্রবধু মুক্তা বেগমের পেটে লাথি মারে। তাৎক্ষণিক প্রচ- রক্তক্ষরণে ৩ মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। এর পরেই অপরাধ থেকে নুরুল ইসলাম নিজেকে আড়াল করতে ছেলে ও পুত্রবধূকে আসামী করে তার দাঁত ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগে মতলব উত্তর থানায় মামলা (জিআর-৬৩/১৯) দায়ের করেন।
নুরুল হক বেপারীর এসব কর্মকা-ের বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ অনেক সালিশরা মামলার ভয়ে মুখ খুলছেন না। স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, মোহম্মদ আলী তাঁর বাবাকে মারধর করে উল্টো বাবাই বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন। তাঁর তিন ভাই, বোন ও শ্যালোকের বিরুদ্ধে তার একাধিক মামলা চলমান। এছাড়া বাড়ির প্রতিবেশিসহ একাধিক পরিবার তার মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন।
প্রবাসীর স্ত্রীসহ দু’শিশু সন্তান কারাগারের থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউপি সদস্য নিপু বেগম জানায়, আমাদের বাড়ি থাকে প্রবাসী মোহাম্মদ আলীর বাড়ি কিছুটা দূরে। তবে যতোটুকো জেনেছি বাবা-ছেলের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। নুরুল ইসলাম মামলা করতে অভ্যস্ত। তিনি ছেলের বিরুদ্ধে তাকে মারধর ও মুখের দাঁত ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগে মামলা করেছেন। পরে ছেলে প্রবাসে থাকায় তাঁর পুত্রবধু ও দু’নাতনীকে পুলিশ গভীর রাতে এসে ধরে নিয়ে গেছে।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে ছেলেও একটি মামলা করতে চেয়েছেন। তাই বাবা ছেলের দ্বন্দ্ব স্থানীয়ভাবে মিমাংসা হয়নি।
এদিকে শিশুদের বাবা প্রবাসী মোহাম্মদ আলীর অভিযোগ পুলিশের এসআই ইদ্রিসের অতি উৎসাহী কর্মকা-ের কারণে তাঁর স্ত্রী ও দু’সন্তান কারাগারে আছেন। ইদ্রিসের সাথে তার বিধবা বোন ফাতেমা আক্তার মনির সাথে দীর্ঘদিনেরর পরকীয়ার সম্পর্ক। এ পুলিশ কর্মকর্তা বোনের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করতে না পেরে তাদের পারিবারিক কলহকে আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে সন্তানসহ স্ত্রীকে গভীর রাতে আটক করেছেন।
এ বিষয়ে ুলিশ সুপার মতল উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জকে মৌখিক অভিযোগ করেছেন বলে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন প্রবাসী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইদ্রিস জানান, আমার বিরুদ্ধে কোটি অভিযোগ থাকলেও কিছু যায় আসে না। আর মহিলা জামিন পাওয়ার কৌশল হিসেবেই তার বাচ্চা দু’টোকে আটকের সময় সাথে নিয়েছে। থানা থেকে নির্দেশ ছিলো তাকে আটক করার, আমি আইন মেনেই আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি।
বাচ্চাদেরকে কারো জিম্মায় রাখতে চেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বাচ্চাদের ফুফুর কাছে রাখতে চেয়েছি কিন্তু বাচ্চাদের মা এতে রাজি না হওয়ায় তাদেরকে সাথে দিয়েই কোর্টে চালান করেছি।
মামলার আইনজীবী অ্যাড. জসিম জানায়, আশা করি বাচ্চা দুটো তাদের মায়ের জামিন হয়ে যাবে। বাবা-ছেলের মামলা আদালতে একটু স্পর্শকাতর হিসেবে দেখে। তবে আমি জামিন শুনানিতে বলেছি প্রবাসী ছেলে তার বাবার সাথে অন্যায় করলেও স্ত্রী যেহেতু অন্য ঘরের মেয়ে। তাকে এখানে জড়ানো উদ্দেশ্যেমূলক।
তিনি আরো বলেন, প্রবাসীর বাবা মামলার বাদী নুরুল হক বেপারী স্থানীয়ভাবে মামলাবাজ হিসেবে পরিচিত। যার তার বিরুদ্ধে তিনি মামলা করে বসেন। জামিন শুনানিতে সরাসরি তিনি চলে এসে তার অভিযোগ আদালতের সামনে নানা অনুনয় বিনয় করে জানাতে থাকেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্যে মামলার বাদী নুরুল ইসলামের মুঠোফোনে সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বলতে চাইলে লাইন কেটে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।