মেডিকেল অফিসারকে বসতে না দেয়ায় স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত জনগণ

কচুয়ার আশ্রাফপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রেটি কার!



কচুয়া ব্যুরো
কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘ অনেক বছর যাবত ডাক্তার শূন্য রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি ডাক্তার পোস্টিং দেয়া হলেও তাকে ওই কেন্দ্রের পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীরা বসতে না দেয়ায় তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বাস্থ্য সেবা দিতে পারছেন না।
গতকাল বুধবার সকালে আশ্রাফপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে কোন ডাক্তার না পাওয়ায় ওই কেন্দ্রে কর্মরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মাসুদা বেগমের কাছে ডাক্তারের বিষয়টি জানতে চাইলে সে জানান, ওই কেন্দ্রে কোন ডাক্তার নাই। বেলা সাড়ে ১১টায় কচুয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত এমসিএইচএফপি ডা. সুবর্না রায় ওই কেন্দ্র উপস্থিত হলে তাকে স্বাস্থ্য বিভাগের ডাক্তার কোথায় বসে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বলেন আশ্রাফপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের। এ সময় ডা. সুবর্না পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীদের নিয়ে ফটো সেশনে যোগ দেন।
দুইমাস আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ডাক্তার পোস্টিং হলেও পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগের অসহযোগিতার কারণে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার কর্মস্থলে গিয়ে সাধারণ জনগণকে স্বাস্থ্য সেবা দিতে পারছে না।
এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সোহেল রানা জানান, কচুয়ায় ডাক্তার সংকট ছিল। এমপি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্যারের সুপারিশে ১২ ডিসেম্বর একদিনে কচুয়ায় ১৬ জন ডাক্তার যোগদান করেছে। আশ্রাফপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন ডাক্তার পোস্টিং দিলেও ওই কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মাসুদা বেগমসহ অন্যদের অসহযোগিতা এবং যোগদানকৃত ডা. রেফায়েতউর রহমানকে বসার জায়গা না দেয়ায় তিনি ওই কেন্দ্রে স্বাস্থ্য সেবা দিতে পারছেন না। উপর্যপুরি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সালাউদ্দিন মাহমুদ যোগযোগ করলে আশ্রাফপুর কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মাসুদা বেগম ওনার সাথে খারাপ আচরণ করেছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. মো. ইলিয়াছের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডা. সুবর্না রায় অসুস্থ। সাইকেটিক সমস্যা রয়েছে। তিনি ওষুধ খান। পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগে এমনিতেই ডাক্তার সংকট রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কোন ডাক্তার বসতে চাইলে তাকে বসার জায়গা করে দেয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ অনেক বছর যাবত আশ্রাফপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোন ডাক্তার না থাকায় ওই এলাকার জনগণ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। জনমনে প্রশ্ন জায়গাটি কি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের না পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগের?