হাইমচরে ক্যাচমেন্ট এলাকার বাইরে থেকে নৈশপ্রহরী নিয়োগের চেষ্টা

শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিনিধি
হাইমচর উপজেলার দক্ষিণ পূর্ব গাজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম-নৈশ প্রহরী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার বাইরের মহসিন মিয়ার ছোট ভাই জসিম উদ্দিনকে নিয়োগের জন্য অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে হুমকি-ধমকি দিয়ে অভিযুক্ত জসিমকে ক্যাচমেন্ট এলাকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে একটি প্রভাবশালী মহল।
জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নিয়োগ বোর্ডে গিয়ে জনৈক মহসিন পাটওয়ারী প্রধান শিক্ষককে বান্দরবান বদলির হুমকি এবং মারতে উদ্বত হলে তাৎক্ষণিক ঐ স্কুলের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। ক্যাচমেন্ট এলাকা হতে দপ্তরী নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার প্রায় শতাধিক এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত একটি পত্র শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন।
বিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিমচর কৃষ্ণপুর গ্রামের ৩নং দক্ষিণ পূর্ব গাজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের সময় ক্যাচমেন্ট এলাকার বাইরে হওয়ায় মহসনি মিয়ার ছোট ভাই জসিম উদ্দিনের আবেদনটি বাতিল করা হয়। আবেদন বাতিল হওয়ার পর অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে তাকে নিয়োগের জন্য সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ২০টি সপ্রাবির নৈশপ্রহরী নিয়োগে উপজেলা হল রুমে কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে মহাসিন মিয়া হলরুমে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে মারতে উদ্যত হন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশৃংখলা এড়াতে এ স্কুলের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধান শিক্ষককে আবেদন বাতিলকৃত জসিম উদ্দিনকে ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দিলে শত শত এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করেন। পরবর্তীতে এলাকাবাসী ক্যাচমেন্ট এরিয়ার ৪ প্রার্থীর মধ্য হতে পরীক্ষার মাধ্যমে বিধি মোতাবেক নৈশ প্রহরী নিয়োগের জন্য স্থানীয় সাংসদ ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ক্যাচমেন্ট এরিয়ার এলাকাবাসী স্বাক্ষর করে একটি আবেদন করেন। ক্যাচমেন্ট এলাকার বাইরের অবৈধ প্রার্থীকে নিয়োগের উদ্যোগ নিলে এলাকায় শান্তি-শৃংখলা নষ্ট হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, মহসিন পাটওয়ারীর ভাই জসিম ক্যাচমেন্টর বাইরে হওয়ায় নৈশপ্রহরী নিয়োগে যাচাই-বাছাইয়ে তার আবদেনটি বাতিল হয়ে যায়। নৈশপ্রহরী নিয়োগ কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে আবেদনকারী জসিমের বড় ভাই মহসিন আমাকে তার ভাইকে ক্যাচমেন্ট এলাকার ভিতরে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়োগ দেয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে অশালীন আচরণ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমার বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরীর নিয়োগ স্থগিত করেন।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত মিজি জানান, জসিম বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এরিয়ার বাইরের হওয়ায় তার নৈশপ্রহরীর আবেদনটি বাতিল করে দেয় নিয়োগ বোর্ড। জসিমের বড় ভাই মহসিন নিয়োগ বোর্ডে এসে আমার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বিশৃংখলার সৃষ্টি করে। তাৎক্ষণিক নির্বাহী অফিসার এ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরীর নিয়োগ স্থগিত করেন। পরবর্তীতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আহসানুজ্জামান লুলু বিদ্যালয়ে এসে নতুন করে ক্যাচমেন্ট তৈরি করে জসিমকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আহসানুজ্জামান লুলু জানান, আমি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঐ স্কুলে গিয়েছিলাম সাব-ক্লাস্টার ট্রেনিংয়ে। স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলে ক্যাচমেন্ট এলাকা বাড়াতে হয়। আমি তাকে বাড়ানোর কথা বলেছি। কোন চাপ প্রয়োগ করিনি।