হাজীগঞ্জে দু’পক্ষের দেয়াল নির্মাণে চলাচলের পথ বন্ধ

সম্পত্তিগত বিরোধের জের

নিজস্ব প্রতিনিধি
হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন মকিমাবাদ সাহেব বাড়িতে দুই দেয়াল নির্মাণ করায় একটি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। দেয়াল নির্মাণ করে দুইপক্ষ থানায় পৃথক দু’টি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে থানার উপ-পরিদর্শক মোশারফ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অভিযোগের বাদী মকিমাবাদ এলাকার খরিদ সূত্রে বাসিন্দা হুমায়ন কবিরের স্ত্রী পারভীন সুলতানা। তিনি তিনজনকে বিবাদী করে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন- নওহাটা গ্রামের মিজানুর রহমান, মকিমাবাদ গ্রামের জুটন ও মিজান। অপরদিকে মিজানুর রহমান বাদী হয়ে পাল্টা আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বিবাদীরা হলেন- পারভীন সুলতানা, হেলু কন্ট্রাক্টর, মো. ছিদ্দিকুর রহমান ও রান্ধুনীমুড়া গ্রামের মন্টু ভান্ডারীর ছেলে আলমাস রায়হান রানা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হুমায়ন কবিরের নির্মিত ভবনে শ্রমিকরা কাজ করছে। সেখানে এখনও বসবাস শুরু হয়নি। ওই ভবনের সামনে দুই সীমানায় দু’টি দেয়াল রয়েছে। জানতে চাইলে মিজানুর রহমান এক সংবাদকর্মীকে বলেন, আমি খরিদসূত্রে ক্রয়কৃত ৬.৬৫ শতাংশ সম্পত্তির মালিক। দলিলে চলাচলের জন্য ৪৪৯ বর্গফুট সম্পত্তি উন্মেুাক্ত রাখার নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া আমি চলাচলের জন্য আরো ২৯ পয়েন্ট সম্পত্তি ক্রয় করেছি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পারভীন সুলতানা ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে উল্লেখিত চলাচলের পথে গর্ত সৃষ্টি করে ময়লার ট্যাংকি বসাতে গেলে বাঁধা আমি বাধা দেই। তারপর গত ১৪ নভেম্বর আমার প্লটের পথের দক্ষিণ পাশে এবং হুমায়নের প্লটের উত্তর পাশে দেয়াল নির্মাণ করে স্ত্রী পারভীন সুলতানা। উপায়ন্ত না পেয়ে আমিও গত ১৭ নভেম্বর দক্ষিণ পাশে পাল্টা দেয়াল নির্মাণ করেছি। তিনি আরো জানান, উভয়পক্ষ একই মলিকের কাছ থেকে সম্পত্তি কিনেছি। উভয়ের দলিলে ৪৪৯ বর্গফুট সম্পত্তি চলাচলের পথের জন্য উন্মুক্ত রাখতে বলা আছে।
এদিকে পারভীন সুলতানা তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, মকিমাবাদ মৌজায় ৪ শতাংশ ২৩ পয়েন্ট সম্পত্তি উপর নির্মিত বিল্ডিংয়ের চলাচলের রাস্তা জবর-দখলের করে পাকা দেয়াল নির্মাণ করে মিজানুর রহমান গংরা।
এ বিষয়ে ওই বাড়ির বাসিন্দা কাজী শাহীদুজ্জামান ঝুটন বলেন, প্রথমে পারভীন সুলতানা চলাচলের পথে দেয়াল নির্মাণ করে। পরে মিজানুর রহমান গংরাও দক্ষিণ পাশে আরেকটি দেয়াল নির্মাণ করে। এখানে বহিরাগত একটি চক্র ইন্ধন দিচ্ছে।
এদিকে আলমাস রায়হান রানা বলেন, সম্পত্তির মূল মালিক রেজিস্ট্রি দিতে ভুল করেছে। সম্পত্তির বিষয় নিয়ে আদালতে আরো দু’টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সম্পত্তি বিক্রেতা ইকবালুজ্জামান ফারুক বলেন, সম্পত্তির রেজিস্ট্রি করা দলিলে সবার চলাচলের জন্য এই পথ উন্মুক্ত থাকবে বলে উল্লেখ করা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পক্ষদ্বয়ের সাথে একাধিকবার বৈঠক হয়। কিন্তু বৈঠকের সিদ্ধান্ত পারভীন সুলতানা না মানায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হচ্ছে।
দুই অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা, থানার উপ-পরিদর্শক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, উভয়পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণে রাখতে স্থিতিবস্থায় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু সম্পত্তিগত বিষয়, তাই উভয় পক্ষকে আদালতের আশ্রয় নিয়ে বিষয়টি সুরাহার জন্য বলা হয়েছে।