হাজীগঞ্জে বাবার সঙ্গে চিরনিদ্রায় শায়িত দুই মেয়ে, জ্ঞান ফেরেনি স্ত্রী ও ছেলের

চট্টগ্রামে প্রাইভেট কার ও লরির সংঘর্ষে

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ
চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট প্রাইভেট কার ও লরির সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম-পরিচালক ও হাজীগঞ্জের বাসিন্দা নিহত বাবা সাইফুজ্জামান মিন্টুর (৪৫) সাথে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে বড় মেয়ে আশরা আনাম খান (১৩) ও ছোট মেয়ে তাসমিন জামান খান (১১)। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় উপজেলার ৩নং কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের পিরোজপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথমে বাবা সাইফুজ্জামান মিন্টু, পরে দুই মেয়ে আশরা আনাম খান ও ছোট মেয়ে তাসমিন জামান খানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় নিহতের নিকটাত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধবসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন।
নিহতের স্ত্রী কনিকা আক্তার (৩৬) ও ছেলে মন্টু (৭) এখনো অচেতন অবস্থায় চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে কনিকা আক্তারের জ্ঞান ফিরলেও তিনি পুনরায় অচেতন হয়ে পড়েন। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হবে বলে নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রামের মহাসড়কের চট্টগ্রাম ফৌজদারহাট বাইপাস সংযোগ সড়ক এলাকায় লরি ও প্রাইভেট কারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে করে সাইফুজ্জামান মিন্টুর দুই মেয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
নিহতের বড় ভাই নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এস.এম মোস্তফা কামাল খাঁন বলেন, আমরা ৬ ভাই ৫ বোন। নিহত সাইফুজ্জামান ভাই-বোনের মধ্যে দশম। তার বড় মেয়ে নিহত আশরা আনাম খান ফেনী ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজে সপ্তম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ও ছোট মেয়ে তাসমিন জামান খানের ঢাকা মিরপুর পুলিশ লাইন স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
নিহতের স্ত্রী কনিকা আক্তার ও ছেলে মন্টুর জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, কনিকা আক্তার জ্ঞান ফিরলেও, মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন। কিন্তু ছেলে মন্টুর এখনো জ্ঞান ফেরেনি। তারা চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ সোমবার তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হবে।
এদিকে জানাজার আগে নিহত সাইফুজ্জামান মিন্টু ও তার দুই মেয়ের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মো. মাঈনুদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক মুরাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ হেলাল উদ্দিন মিয়াজী, নিহতের ভাই অধ্যাপক মো. আবুল হাসেম খান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মানিক হোসেন প্রধানীয়া, ফেনী ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক নুরে আলম প্রমুখ।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান পলাশের পরিচালনায় বক্তব্য শেষে জানাযা পড়ান হাফেজ আবদুল মান্নান ও মাও. আবদুল খালেক। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, নিহতের নিকটাত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব, স্থানীয় ও এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন।