হাজীগঞ্জে স্কুল ছাত্র রিয়াদ হত্যায় প্রধান আসামিসহ আটক ৯


মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে স্কুল ছাত্র মারুফ হোসেন রিয়াদ (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি ফারুক হোসেনসহ ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে চারজন নামীয় এবং ৫ জন সন্দেহভাজন।
আটক প্রধান আসামি ফারুক হোসেন কচুয়া উপজেলার মালছোঁয়া গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে এবং যে দোকানে রিয়াদের মরদেহ পাওয়া গেছে সে ওই দোকানের মালিক ফরিদের ভায়রা।
সোমবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ জেলা থেকে ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর নিয়ে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর জেলা কর্মকর্তারা।
এর আগে রোববার সকালে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৪নং ওয়ার্ডের আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার ফরিদের টং দোকান থেকে রিয়াদের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাতের কোন এক সময়ে তাকে খুন করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত রিয়াদের বাবা ফারুক মিয়া বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে ফারুক হোসেনসহ ৬ জনকে নামীয় এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের শিকার মারুফ হোসেন রিয়াদ ওই ওয়ার্ডের মকিমাবাদ গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে। সে আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির (ভোকেশনাল শাখা) শিক্ষার্থী ছিল। সে তার বাবা-মায়ের সাথে হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সুদিয়া গ্রামে নতুন বাড়িতে থাকতো।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সারসংক্ষেপ পর্যালোচনা এবং সিসি টিভির ফুটেজ দেখে নামীয় ৪ জন ও সন্দেহজনক ৫ জনসহ মোট ৯ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে রোববার রাতে ৮ জনকে আটক করা হয়। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে, সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
আটকরা হলো- মকিমাবাদ জালাল উদ্দিন হাজি বাড়ির মুকবুলের ছেলে রাকিব, হানিফের ছেলে রাব্বী, মোস্তফার ছেলে সাকিব, আবদুল মালেকের ছেলে রাকিব ও আবুল কাশেম, দোকানের মালিক ফরিদ হোসেন এবং নিহত রিয়াদের চাচা শাকিল (১৮) ও সুইপার নুরুল আমিন।
অপরদিকে মামলার প্রধান আসামি ফারুক হোসেনকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ জেলা থেকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর নিয়ে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, রিয়াদকে একাধিক ছুরি কাঘাতে হত্যা করা হয়। এরপর তার মরদেহ গুম করার লক্ষ্যে সেপটিক ট্যাংক (টয়লেটের ট্যাংক) ফেলার চেষ্টা করে। এজন্য দুইটি টয়লেটের ট্যাংক পরিষ্কার করে সুইপার নুরুল আমিন।
থানার ভারগ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন রনি বলেন, আসামিদের রিমান্ড চাওয়া হবে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।