হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠন

পুলিশি বাধায় বিএনপি’র সম্মেলন অনুষ্ঠিত


মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে পুলিশি বাধায় বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উপস্থিতিতে গত শুক্রবার দুপুরে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জি. মমিনুল হকের বাড়ির আঙ্গিনায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর এবং শাহরাস্তি উপজেলা ও পৌর শাখা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়।
পুলিশি বাঁধায় হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন পন্ড হলেও দুপুরে প্রধান অতিথির উপস্থিতিতে কমিটি ঘোষণা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক। তিনি জুমার নামাজ শেষে নিজ বাসভবনে নেতা-কর্মীদের সামনে দুই উপজেলার চার ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করেন।
এতে হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজাম্মেল হক মোহন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদ স্থগিত রাখেন এবং পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল বাসার ও সাধারণ সম্পাদক রহমান মিয়াজী। শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়াত আলী ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান পাটওয়ারী এবং পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের সিএ ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মিয়াজীর নাম ঘোষণা করা হয়।
এ দিন সকালে কাউন্সিলরদের আসার আগেই সম্মেলন স্থলের আশ-পাশের এলাকায় এবং ইঞ্জি. মমিনুল হকের বাড়ির প্রবেশ পথে পুলিশ অবস্থান নেয়। পরে কাউন্সিলরদের সম্মেলনস্থলে ঢুকতে পুলিশ বাঁধা দেয়। এতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলন পন্ড হয়ে যায়। তবে জুমার নামাজের পর ঘরোয়া পরিবেশে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানান।
এর আগে শতাধিক কাউন্সিলর সম্মেলনস্থলে অবস্থান নেয়। এরপর পুলিশি বাঁধা পেয়ে বেশ কিছু কাউন্সিলর ইঞ্জি. মমিনুল হকের বাসভবনের পশ্চিম এবং দক্ষিণ দিক দিয়ে মই বেয়ে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করেন। তবে হাজীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন রনি বলেন, বিএনপির অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমার জানা নাই। কিন্তু সম্মেলনের সংলগ্ন এলাকায় এবং প্যান্ডেলের মূল ফটকে পুলিশের অবস্থান দেখা গেছে।
বিএনপি আয়োজিত ত্রি-বার্ষিক এই সম্মেলনে সহস্রাধিক কাউন্সিলর ও নেতা-কর্মীর উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশের অনুমতি না নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি। যার ফলে শুক্রবার সকাল থেকেই হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের সোনাইমুড়ি ও বেলচোঁ বাজারে পুলিশের টহল জোরদার করে এবং সম্মেলনস্থলে নেতাকর্মীদের প্রবেশে বাঁধা দেয়।
বিএনপির একটি পক্ষের অভিযোগ, জেলা বিএনপির অনুমতি ছাড়া এ সম্মেলনের আয়োজন করেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জি. মমিনুল হক। তিনি সোনাইমুড়ি এলাকায় নিজ বাড়ির আঙিনায় বিশাল প্যান্ডেল করে এই সম্মেলনের আয়োজন করেন। অথচ সম্মেলনের জন্য পুলিশ প্রশাসন ও জেলা বিএনপির কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। কিন্তু অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে এনে উপস্থিত রাখেন।
পুলিশের অনুমতি না নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ইঞ্জি. মমিনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আমি ঘরোয়া পরিবেশে বাড়ির আঙিনায় সম্মেলনের আয়োজন করি। এজন্য পুলিশকে বিষয়টি জানাইনি। তবে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদকে সম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে রাখা হয়েছিল।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সাংবাদিকদের বলেন, ইঞ্জি. মমিনুল হক আমাদের অনুমতি ছাড়া তার বাড়িতে একতরফাভাবে সম্মেলন আয়োজন করেন। এতে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী বিভ্রান্ত হয়ে বিষয়টি আমাদের জানান। আমরা এ ব্যাপারে দলের শীর্ষ পর্যায়ে জানিয়েছি।
হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মোহন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জি. মমিনুল হক, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, কেন্দ্রিয় ওলামা দলের সদস্য সচিব অধ্যাপক মাও. নজরুল ইসলামসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।