৮ বসতঘর বিলীন : চাঁদপুরে শহর রক্ষা বাঁধে দেবে গেছে সিসি ব্লক

চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার হরিসভা এলাকার মোলহেডে শহররক্ষা বাঁধে মেঘনার ভাঙনস্থানে বস্তা ডাম্পিং করা হচ্ছে। -ইল্শেপাড়

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর পুরাণবাজার হরিসভা এলাকার শহর রক্ষা বাঁধে আবারো মেঘনার ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে হঠাৎ পুরাণবাজার শহর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার এলাকায় এ ভাঙন দেখা দেয়।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক শ্যামল রায়, দুখু ঘোষ, ভুলু ঋসি, সুভাষ ঋসি, নারায়ন ঘোষের বসতঘর ও সাহাদাত পাটওয়ারীর টং দোকান সরিয়ে নেয়া হয়। রাতেই ৫০ মিটার এলাকা নদী ভাঙনে বসতঘরসহ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে আরও বেশ কিছু পরিবার।
গত দুই মাস আগে আচমকা একই সময়ে হরিসভা মন্দিরের সামনে দিয়ে মেঘনা নদীর ভাঙন শুরু হয়। ওই ভাঙনে হরিসভা মন্দির ও কমপ্লেক্স, লোকনাথ মন্দির, জগন্নাথ মন্দিরসহ পুরো এলাকাটি হুমকির মুখে পড়ে। তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসন, পানিসম্পদ মন্ত্রীসহ উর্ধ্বতন কর্তা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এই স্থানটিকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শহর রক্ষা বাঁধ তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু বিধিবাম সোমবার সন্ধ্যায় হরিসভা মন্দিরের উত্তর ও পশ্চিমাংশে মেঘনা নদীর শহর রক্ষা বাঁধে বসানো সিসি ব্লকগুলো নদীতে দেবে যেতে শুরু করে। আর এতে করে শ্যামল রায়, দুখু ঘোষ, ভুলু ঋষী, সুভাষ ঋষী, নারায়ন ঘোষের বসতঘর নদীতে তলিয়ে যায়।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মাহাবুুবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. জামাল হাসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করেই মন্দিরের উত্তর পশ্চিমপাশে নদীপাড়ে শহর রক্ষা বাঁধের বেশকিছু সিসি ব্লক তলিয়ে যায়। এ সময় বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ও দোকানপাট নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই একের পর এক বলগেট জিও ব্যাগ বোঝাই বালুর বস্তা ভাঙন স্থানে ফেলাতে দেখা যায়।
তাৎক্ষণিক ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ হাজার বালু ভর্তি জিও টেক্সটাইল বস্তা ফালানো শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘরের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ নাছির উদ্দিন আহমেদ ভাঙন এলাকায় আবারও পরিদর্শনে যান।
এ সময় তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হানকে দ্রুতগতিতে জিও টেক্সটাইল বালি ভর্তি ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন রোধে কাজ করার জন্য অনুরোধ জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী আবু রায়হান বলেন, সোমবার মাগরিবের পর ভাঙন শুরু হয়েছে। ৪০ মিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিলেও বর্তমানে ৫০ মিটার এলাকা ভাঙন কবলিত হয়েছে। হরিসভা এলাকার পুরো শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে। আমরা ভাঙন রোধে তাৎক্ষণিক বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফালানো শুরু করেছি। গতকাল দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৩শ’ জিও টেক্সটাইল বালি ভর্তি বস্তা ভাঙন এলাকায় ফালানো হয়েছে। আমাদের হাতে ৩ হাজার বস্তা বালু ভর্তি জিও ব্যাগ রয়েছে। প্রয়োজনে ভাঙন রোধে আমরা আরও বালু ভর্তি জিওব্যাগ প্রস্তুত করে ভাঙন রোধে কাজ করবো।
জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশে বলেন, আতংকিত হবেন না। জরুরিভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত দুই মাস আগে হরিসভার এই এলাকায় আরেক দফা মেঘনার ভাঙনের শিকার হয়। তখন প্রায় তিন শ’ মিটার শহর রক্ষা বাঁধ নদীতে দেবে যায়। প্রতিবারই পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন ঠেকাতে কাজ করেছেন। আবারো সেখানে ভাঙন শুরু হওয়ায় হরিসভা, মধ্য শ্রীরামদী ও পশ্চিম শ্রীরামদী এলাকাটি এখন মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন।