চাঁদপুরে চালু হয়েছে ‘ত্রাণ যাবে বাড়ি’

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে



শাহ আলম খান
‘নিজ নিজ ঘরে থাকুন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করুন’ এই স্লোগানে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালু হয়েছে ‘ত্রাণ যাবে বাড়ি’। অর্থাৎ কর্মহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাড়ি থেকে (০১৭০৪০৪০৪৩৩, ০১৭০৪০৪০৪৯২) এই নম্বরে কল করা হলে ত্রাণ বাইকে করে পৌঁছে দেয়া হবে। গতকাল বুধবার বিকাল ৫টায় এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।
উদ্যোগটি শুরুর আগে আইডিয়াটি উপস্থাপন করা হলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লোকজন এগিয়ে আসেন। প্রায় ২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে এগিয়ে এসেছেন তরুণ সংগঠকরা। তাদের মাধ্যমেই এখন থেকে ত্রাণ পৌঁছানো হবে।
উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, আপনারা জানেন করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার যানবাহন চলাচল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা সীমিত করে দিয়েছে। এ কারণে যারা শ্রমজীবী মানুষরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ রিকশাচালক, শ্রমিক, ভ্যান চালক এ ধরনের লোকজন গত ১ সপ্তাহে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা যদি তাদের ত্রাণ দেয়ার জন্য ডাকি তাহলে অনেক লোকের সমাগম হয়ে যাবে। যা করোনা ভাইরাসের জন্য হুমকি। এতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সরকারের যে নির্দেশনা তা ব্যাহত হবে। এ কারণে আমাদের জেলা প্রশাসনের নির্দেশে একটি আইডিয়া হিসেবে ‘ত্রাণ যাবে বাড়ি’ চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি। অর্থাৎ আমাদের যে হটলাইন নম্বর দিয়েছি, তাতে যদি কর্মহীন লোকজন ফোন করে, তাহলে আমরা যাচাই-বাছাই করে স্বেচ্ছাসেবী ৪০ জন বাইকার তাদের বাড়িতে গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিয়ে আসবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এনডিসি মো. মেহেদী হাসান মানিক এবং জেলা মার্কেটিং অফিসার মো. রেজাউল করিম।
উল্লেখ্য, এর আগে করোনাভাইরাস প্রতিরোধকালীন সময়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ন্যায্যমূল্যে সততা স্টোর, ৩টি হোটেল ৩শ’ গরিব ও কর্মহীন মানুষের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা, ২০% মূল্য ছাড়ে দু’টি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে পণ্য সামগ্রী বিক্রি, দু’টি হসপিটাল ও একটি ফার্মেসীতে ৫০% ছাড়ে প্রয়োজনীয় ঔষধ বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।