চাঁদপুরে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা


স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে গণহত্যা ও মহান স্বাধীনতা এবং জাতীয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এ বছরই দ্বিতীয়বারের ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালিত হবে। আর সেইদিন রাত ৯টা থেকে ১ মিনিট জেলায় প্রতিটি ব্লাকআউট পালন করা হবে। সবাই স্ব-স্ব দপ্তর থেকে এমনকি বাসা-বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ ১ মিনিটের জন্য বন্ধ করে অন্ধকার রাত পালন করতে হবে। জাতীয় পতাকা উত্তোলনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মনে করেন, পতাকা উত্তোলন করতে পারলেই যেন কাজ শেষ বিষয়টি তা না। বিষয়টি চেতনার বিষয়। প্রত্যক প্রতিষ্ঠানে সঠিক মাপে এবং সঠিক নিয়মে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। ২৬ শে মার্চ বাঙ্গালী জাতির জন্য উত্তাল মাস। কারণ এ মাসের ৭ তারিখ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে শিশু দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস। জাতীয় দিবসগুলোতে সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে হবে।
সভায় বিগত বছরের কার্যবিবরণী পাঠন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। সভায় সকলের সম্মতিক্রমে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলেন- গৃহীত কর্মসূচির প্রতিটি ভেন্যুতে নিরাপত্তা বিধানের জন্য পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করা হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনা সভায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। গৃহীত কর্মসূচি প্রচারের লক্ষে জাতীয় পতাকা সঠিক মাপ রঙয়ের ব্যবহার সম্পর্কে জনসাধারণের সচেতনতার বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ১ মার্চ হতে ২৬ মার্চ জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য এবং উন্নয়ন অগ্রগতির বিষয়ে আলোচনা, জাতীয় পর্যায়ে রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। তা বাস্তবায়নের জন্য জেলা শিক্ষা অফিস ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ১১ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ জেলা তথ্য অফিসার শহর এলাকার প্রধান প্রধান সড়কে বঙ্গবন্ধুর জীবনালেখ্য ও স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র বাবুরহাট, বাগাদী চৌরাস্তা, চাঁদপুর প্রধান ডাকঘরের সেতুর পাদদেশে, পুরাণবাজার মধুসুদন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ও শহরের জনবহুল স্থানে তা প্রদর্শন করবে। ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কণ্ঠে ২৫ মার্চ গণহত্যার স্মৃতিচারণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অণুষ্ঠিত হবে। হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২৫ মার্চ গণহত্যার উপর দূর্লভ প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সকাল ১০টায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গীতি নাট্য জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে।
২৬ মার্চ সূর্যোদেয়র সাথে সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কের অঙ্গীকার পাদদেশে পুষ্পস্তোবক অর্পন, সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসক কর্তৃক চাঁদপুর স্টেডিয়ামে সমাবেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস,কারারক্ষী, ওভার স্কাউট, স্কাউটস, গার্ল্স গাইড, কমিউনিটি পুলিশসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য শিশু কিশোর সংগঠনের সালাম গ্রহণ ও কুচকাওয়াজ প্রদর্শন।
সকাল ১১টায় চাঁদপুর সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে জেলা সদরের মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। একই সময়ে জেলার সকল সিনেমা হলে ছাত্র-ছাত্রী ও শিশু কিশোরদের জন্য বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সিনেমা প্রদর্শন। সুবিধাজনক সময়ে জাতির শান্তিও অগ্রগতি এবং শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় বিশেষ প্রার্থনা। দুপুর ১টায় হাসপাতাল, জেলখানা, এতিমখানা, সরকারি শিশু পরিবার ও মূক বধির স্কুলে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করতে হবে। বিকেল ৩টায় মহিলাদের আলোচনা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
বিকেল ৪টায় স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা একাদশের প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ। সন্ধ্যা ৭ টায় জেলা শিল্পকলার আয়োজনে ‘মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ডিজিটাল প্রযুক্তির সার্বজনীন ব্যবহার’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মহান স্বাধীনতার দিবস ২৬ মার্চ উদ্যাপন করা হবে। এছাড়া জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে।
সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ সচিব মিজানুর রহমান, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ডা. এএসএম দেলওয়ার হোসেন, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী জি.এম মজিবুর রহমান, এনএসআই’র উপ-পরিচালক এবিএম ফারুক, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ কবির চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এম.এ ওয়াদুদ, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. একেএম মাহাবুবুর রহমান, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ারুল আজিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. খলিলুর রহমান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মো. মজিবুর রহমান, গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্বাস উদ্দিন, জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক রজত শুভ্র সরকার, বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম, প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র নন্দী, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলীমা আফরোজ, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী আফরোজ, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়–য়া, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটুস লরেন্স চিরানসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।