আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনে সমবায়ের গুরুত্ব অপরিসীম
…………শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি
শাহ্ আলম খান
‘সমবায় শক্তি-সমবায় মুক্তি, বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়ন’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে ৪৯তম জাতীয় সমবায় দিবস ২০২০ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক, সমবায় বিভাগ ও সমবায় সমিতিসমূহের আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা ও সমবায় সমিতির পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান ও নবনির্বাচিত পৌর মেয়র অ্যাড. মো. জিল্লুর রহমান জুয়েলসহ কর্মকর্তাবৃন্দ। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম খতিব মাও. মো. কেফায়েত উল্লাহ্ ও গীতা পাঠ করেন উপজেলা সমবায় অফিসের অফিস সহকারী অরুপ কুমার দেবনাথ।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে মুঠোফোনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনে সমবায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। শতাব্দী প্রাচীন এ আন্দোলন বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সমবায়ের চেতনাকে প্রবল ও অর্থবহ করে তুলেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজন্ম লালিত স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। তিনি দরিদ্র-সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে গণমুখী সমবায় আন্দোলনের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে সমবায় কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, পোষাক, দুগ্ধ উৎপাদন, আবাসন, ক্ষুদ্র ঋণ ও সঞ্চয়, কুটির-চামড়াজাত-মৃৎশিল্প ইত্যাদি খাতের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন ক্ষেত্রে উন্নয়নসহ, ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে বিশাল অবদান রাখছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কাজী আবদুল রহিম, নবনির্বাচিত পৌর মেয়র অ্যাড. মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল ও সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী অফিসার কানিজ ফাতিমা।
জেলা সমবায় কার্যালয়ের পরিদর্শন মো. মোতালেব খানের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা সমবায় অফিসার মো. মোমেন হোসেন ভূঁইয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা সমবায় অফিসার দুলাল চন্দ্র দাস।
সমবায়ীদের মধ্য বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংকের সম্পাদক আলী এরশ্বাদ মিয়াজী ও চাঁদপুর সদর ইউসিসিএ’র সভাপতি শহীদুল্লাহ্ খান।
আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম শনিবার জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন হয়ে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বর ৪৯তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন হতে যাচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়ন। এই দিবসটি চাঁদপুরের সকল উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ উদযাপন হচ্ছে। চাঁদপুর জেলায় ১৮টি কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি ও ২৯৪৪টি প্রাথমিক সমবায় সমিতি রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ১৮১০টি ও পল্লী উন্নয়ন বোর্ড সমর্থন পুষ্ট ১১৩৪টি প্রাথমিক সমিতি রয়েছে। চাঁদপুর জেলার সমবায় সমিতিগুলো হতে সরকারি রাজস্ব খাতে ৫,১৭,৫২০ টাকা অডিট ফি এবং ৮,৭৬,৪৪১ টাকা সমবায় উন্নয়ন তহবিল আদায় করা হয়েছে। বর্তমানে চাঁদপুর জেলায় ১৯টি আশ্রয়ন প্রকল্প রয়েছে এতে ব্যারাক সংখ্যা ৪৩৮টি, পূনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা ২৪০৫টি উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ২,৫১,২১০০০ টাকা আদায়কৃত ঋণের পরিমাণ ১,০৩,৪০,৫৫৪ টাকা অবশিষ্ট টাকা নিয়মিত আদায় অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া এ জেলায় বিঋিণ্ন সমবায় সমিতিতে ১৭৪২ জন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে। চাঁদপুর জেলায় সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জীবনমান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চাঁদপুর সদর উপজেলার ২০০ জন ও মতলব উত্তর উপজেলায় ২০০ জন মোট ৪০০ জন নারী। প্রতি জন ১,২০,০০০ টাকা করে বকনা বাছুর ক্রয় ও খাদ্য খরচ বাবদ দেয়া হয়েছে। এতে সর্বমোট সর্বমোট ৪,৮০,০০,০০ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ও আদায়ের পরিমাণ ৭৩,০০,৯৬৪ টাকা এতে আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি নারীদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাবে। এতে স্থায়ীভাবে দেশে দুধ ও মাংসের উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান সরকার সমবায়কে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার জন্য সমবায় আইনকে যুগোপযোগী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সমবায় সমিতিগুলো নিজস্ব উদ্যেগে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমবায় সমিতিগুলো টেকসই উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে চাঁদপুর জেলায় জাতীয় পর্যায়ে সমবায় পুরস্কর ২০১৯ চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি মনোনীত হয়েছে। আপনারা দূরদূরান্ত থেকে এসে সমবায় দিবসকে সাফল্য মন্ডিত করেছেন সেজন্য আমি আপনাদের নিকট কৃতজ্ঞ।
এক নজরে চাঁদপুর জেলার সমবায় বিভাগের উন্নয়ন কর্মকান্ড। বর্তমানে চাঁদপুর জেলায় সরকারীভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও উন্নত জাতের গাভী পালন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের বিবরণ উল্লেখ করা হলো।
১। আশ্রয়ণ প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে চাঁদপুর জেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পসমূহ চলমান রয়েছে। ঐ প্রকল্পসমূহে ইতোমধ্যে ২৪৫০ জন সুবিধাভোগীদের মধ্যে ২,৫১,২১০০০ (দুই কোটি একান্ন লাখ একুশ হাজার) টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এবং ১,০৩,৪০,৫৫৪ টাকা আদায় করা হয়েছে। চাঁদপুর জেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে পূনর্বাসিত পরিবার এবং ঋণ বিতরণ সংক্রান্ত তথ্যাদি
(ক) রঘুনাথপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প ব্যারাক সংখ্যা ৬টি পূনর্বাসিত পরিবার হলো ৬০ জন ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিলো ১১০১০০০ টাকা, আসল আদায় হয়েছে ৬৫,৫৪৮০ টাকা, সার্ভিস চার্জ আদায় করেন ৫১,৭০০ টাকা। শিমুলিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ব্যারাক সংখ্যা ২টি, পূনর্বাসিত পরিবার হলো ২০ জন, ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিলো ৩৫,৫০০০ টাকা, আসল আদায় করা হয়েছে ৩২৯২১৯ টাকা। নাউলা আশ্রয়ণ প্রকল্প ব্যারাক সংখ্যা ৪টি, পূনর্বাসিত পরিবার ৪০ জন, ঋণ বিতরণের পরিমাণ করা হয়েছে ১৮৫০০০০ টাকা, আসল আদায় করা হয়েছে ১৬৩৭৩০০ টাকা, সার্ভিস চার্জ আদায় হয়েছে ১২৭৬৩৮ টাকা।
আশ্রয়ণ প্রকল্প (ফেইজ -২) এখলাছপুর ব্যারাক সংখ্যা ৫টি পূনর্বাসিত পরিবার ৫০জন, ঋণ বিতরণের পরিমাণ ১৭৪০০০০ টাকা, আসল আদায় হয়েছে ১৩৮৭১৭৯ টাকা, সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়েছে ১১১৪৬৫ টাকা। বড়দূর্গাপুর ব্যারাক সংখ্যা ৭টি, পূনর্বাসিত পরিবার হলো ৭০ জন, ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিলো ৮৬৫০০০টাকা, আসল আদায় করা হয়েছে ৬১৬৬৯২টাকা, আর সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়েছে ৫২০৫৮ টাকা।
বেলতলী আশ্রয়ণ প্রকল্প ব্যারাক সংখ্যা ৬টি, পূনর্বাসিত পরিবার হলো ৬০ জন, ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিলো ৬৯০০০০ টাকা, আসল আদায় করা হয়েছে ৬০০৩০১টাকা, সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়েছে ৫১৯৬১ টাকা। চরমুকুন্দি আলহাজ সেকান্তর আলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ব্যারাক সংখ্যা ১৩টি, পূনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা ১৩০ জন, ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিলো ১২৪০০০০ টাকা, আসল আদায় করা হয়েছে ৭৫৫২১৭টাকা, সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়েছে ৬৬০০৩ টাকা। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প। রঘুনাথপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প ২। ব্যারাক সংখ্যা ২৫টি, পূনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা ১২৫ জন, ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিলো ২৩৪০০০০ টাকা, আসল আদায় করা হয়েছে ৩৫০৪৮৩ টাকা, সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়েছে ২৩৪১৭ টাকা। রামদাসাদী আশ্রয়ণ প্রকল্প-২। ব্যারাক সংখ্যা ৫২টি, পূনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা ২৬০ জন, ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিলো ৩০০০০০০ টাকা, আসল আদায় করা হয়েছে ৬৪১১২২ টাকা, সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়েছে ৪৪৬৭৮ টাকা। লক্ষীপুর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প। ব্যারাক সংখ্যা ৪৬টি, পূনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা ২৩০ জন, ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিলো ৩২০০০০০ টাকা, আসল আদায় করা হয়েছে ৪৪৬১৮৮ টাকা, সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়েছে ৩১৩১২ টাকা। মনোহখাদী আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প। ব্যারাক সংখ্যা ৩২টি, পূনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা ১৬০ জন, ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিলো ১৯০০০০০ টাকা, আসল আদায় করা হয়েছে ২২৮৪১২ টাকা, সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়েছে ১৫৯৮৮ টাকা। বলাশিয়া আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প। ব্যারাক সংখ্যা ২০টি, পূনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা ১০০জন, ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিলো ৬৮০০০০ টাকা, আসল আদায় করা হয়েছে ৪৬৮৯৭১ টাকা, সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়েছে ৩২৮২৯ টাকা। রামদাসাদী-১, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প। ব্যারাক সংখ্যা ২৪টি, পূনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা ১২০ জন, ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিলো ১৮২০০০০ টাকা, আসল আদায় করা হয়েছে ৫০৭০০৬ টাকা, সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়েছে ৩৫৪৯৪ টাকা। লক্ষীপুর-১, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প। ব্যারাক সংখ্যা ৪০টি, পূনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা ২০০ জন, ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিলো ১৮২০০০০ টাকা, আসল আদায় করা হয়েছে ৪৬৮৯৭০ টাকা, সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়েছে ৩২৮৩০ টাকা। মেঘনার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২। ব্যারাক সংখ্যা ২৪টি, পূনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা ১২০জন, ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিলো ১০৮০০০০ টাকা। পদ্মা আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ব্যারাক সংখ্যা ২৮টি, পূনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা হলো ১৪০ জন, ছোট চর কালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প-২। ব্যাকার সংখ্যা ৪৪টি, পূনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা হলো ২২০ জন। চরমুকুন্দি আলহাজ সেকান্তর আলী আশ্রয়ণ প্রকল্প-২। ব্যারাক সংখ্যা ১৮টি, পূনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা হলো ৯০ জন তাদের মধ্য ঋণ বিতরণ কাজ দ্রুত করা হবে। উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধা বঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্প সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলা এবং মতলব উওর উপজেলায় উন্নতজাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধা বঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ২০০ জন এবং মতলব উওর উপজেলায় ২০০ জন করে মোট ৪০০ জন উপকারভোগীকে ২% হারে সার্ভিস চার্জ ৪,৮০,০০,০০০ (চার কোটি আশি লক্ষ) টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে। সুবিধাভোগীদের তথ্যাদি উল্লেখ করা হলো।
গোয়াল নগর নারী উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ সুবিধাভোগী লোক ১০০ জন, তাদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১২০০০০০০ টাকা, আসল আদায় করা হয়েছে ১০০০৭৫৬ টাকা, সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়েছে ১০০৭৫২ টাকা। বলাশিয়া নারী উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ সুবিধাভোগীদের সংখ্যা ১০০ জন,ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১২০০০০০০টাকা, আসল আদায় করা হয়েছে ৫০০০৬১টাকা, সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়েছে ২০০২৫৬ টাকা। ফরাজীকান্দি নারী উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ সুবিধাভোগীদের সংখ্যা ১০০জন, ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১২০০০০০০টাকা, আসল আদায় করা হয়েছে ২৪০০০১৬ টাকা, সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়েছে ২৯০০০০ টাকা। মোহনপুর নারী উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ সুবিধাভোগীদের সংখ্যা হলো ১০০জন, তাদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১২০০০০০০টাকা, আসল আদায় করা হয়েছে ২৭৩৬০০০ টাকা, সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়েছে ৩১২০০০ টাকা। প্রকল্পের মাধ্যমে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের দুগ্ধ ও মাংসের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
উল্লেখ্য, চাঁদপুর জেলায় সর্বমোট ২৮৬৭ টি সমবায় সমিতি রয়েছে। তন্মধ্যে বেশ কিছু সমিতি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দারিদ্র বিমোচন ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছে। উক্ত কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ ২টি সমবায় সমিতি ও ২জন সমবায়ী জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে। ২০৩০ ও ২০১০ চান্দ্রা শিক্ষিত বেকার যুব বহুমুখী সমবায় সমিতির মো. জসীম উদ্দিন শেখ এবং ২০১৪ সালে চাঁদপুর সেন্ট্রাল কো-অপরেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বিষ্ণুদী আদর্শ সমবায় সমিতির সভাপতি, বিশিষ্ট সমবায়ী, মুক্তিযোদ্ধা আবু নাঈম পাটওয়ারী দুলাল জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সমবায়ীর পুরস্কার অর্জন করেছেন।
৮ নভেম্বর, ২০২০।
