অনলাইন ডেস্কঃ একজন সাংবাদিক অসুস্থ হলে তার পাশে রাষ্ট্রের যেভাবে থাকার কথা, যেভাবে এগিয়ে আসার কথা সেভাবে রাষ্ট্র কখনোই থাকছে না, এটা খুবই দুঃখজনক। অথচ যথেষ্ট প্রতিশ্রুতিশীল এবং সম্ভাবনাময় সাংবাদিক তিনি। সে হিসেবে তার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যতটুকু আন্তরিক হবার কথা ততটুকু আন্তরিকতা দেখা যায়নি তাদের মধ্যে- টেলিফোনে কথাগুলো বললেন একুশে টেলিভিশনের প্রধান প্রতিবেদক মঞ্জুরুল আলম পান্না। আর যার জীবন যন্ত্রণা নিয়ে কথা, তিনি হলেন ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক হাসান মিসবাহ। সেখানে যোগ দেওয়ার আগে একুশে টেলিভিশনে কাজ করতেন তিনি।
পান্না আরও বলেন,গত তিনদিনে মিসবাহর ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের কোনও আন্তরিকতা আমরা দেখিনি। সব মিলিয়ে গতকাল ( শনিবার) পর্যন্ত আমার কাছে মনে হয়েছে, তিনি অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। একজন সাংবাদিক হিসেবে যেটা তার প্রাপ্য নয়।
জানা যায়,হাসান মিসবাহ গত ৩০ ডিসেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। পঙ্গু হাসপাতালের কেবিন ওয়ার্ডের ২০৮ নম্বর কক্ষে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।
মঞ্জুরুল আলম পান্না আরও বলেন,সাংবাদিক নেতারা যারা রয়েছেন তাদেরও কোনও খোঁজ খবর নেই—সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন,মানুষ বিপদে পড়লে অনেক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে তার ভেতরে। এ জন্য হয়তো মিসবাহ কিছু বলতে পারছেন না। তবে আমি যতোটুকু শুনেছি, মিসবাহর জন্য তার নতুন কর্মস্থলের যতটুকু সহানুভূতিশীল হওয়ার কথা ছিল, তার কিছুই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না, যতটা খোঁজ খবর নেওয়ার কথা ততটা গুরুত্ব তারা দিচ্ছেন না। যদিও আজ সেখানকার হেড অব নিউজ গিয়েছিলেন মিসবাহকে দেখতে। সহকর্মীরা ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির বার্তা প্রধান মামুন আব্দুল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই আমরা এই সহকর্মীর পাশে রয়েছি। তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও করা হয়েছে।’
৩০ ডিসেম্বর দুর্ঘটনায় আহত হলেও আজ ২ জানুয়ারিতে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে কেবিন পেয়েছেন মিসবাহ। মাঝের কয়েকটা দিন কেউ ছিল না তাকে দেখার, কেউ তার খোঁজ নেননি।
হাসান মিসবাহকে ফোন করা হলে তিনি প্রথমেই বলেন, দুঃখের সঙ্গে বসবাস, ব্যাথার সঙ্গে সংসার। অসম্ভব সম্ভাবনাময় ও মেধাবী এই সাংবাদিক ক’দিন আগেও স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য তথ্যমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নিয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনার আদ্যোপান্ত নিয়ে অসংখ্য প্রতিবেদন করে তিনি নিজেই এখন সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে শুয়ে আছেন হাসপাতালের বিছানায়।
মোবাইল ফোনে মিসবাহ জানান,গত ৩০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে নয়টায় মোটরসাইকেল যোগে যাচ্ছিলেন তার নতুন কর্মস্থল ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে। বিজয় স্মরণীতে আসার পর মিসবাহকে পাশ থেকে চাপা দিয়ে চলে যায় একটি মাইক্রো।
মিসবাহর ডান পায়ের তিন জায়গায় ভেঙে গেছে, থেতলে গেছে। গত ৩০ এবং ৩১ ডিসেম্বর দুদফা অপারেশন হয়েছে পঙ্গু হাসপাতালেই। অপারেশন করার পরে ব্যাথা কয়েকগুন বেড়ে যায়। যার ব্যাথা না হয় সে বুঝবে না এ কেমন ব্যাথা। ভাঙা ভাঙা গলায় বলে চলেন মিসবাহ। চিকিৎসকেরা বলেছেন, ছয়মাস বিশ্রামে থাকতে হবে, এ সময়টুকুতে আমার চাকরির কি হবে জানি না।
গত তিন চারদিনে চল্লিশ-পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে বলে জানান মিসবাহ। পরিবারের সবাই দিনাজপুর থেকে চলে এসেছেন। খরচের মাত্রাটা পারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে। সৎভাবে জীবনযাপন করা মিসবাহ’র একার পক্ষে সেই খরচ বহন করা কঠিন।
গত ১৩ ডিসেম্বর একুশে টেলিভিশন থেকে ইস্তফা দিয়ে মিসবাহ যোগ দেন ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে।
মিসবাহ বলেন, আমি আশা করি কর্মস্থল আমার পাশে থাকবে। আর রংপুর সাংবাদিক সমিতি আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। মিসবাহ হাসান বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমার কথা জানেন, তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যেন চিকিৎসায় কোনও ত্রুটি না হয়।
হাসান মিসবাহ বলেন, তাকে অন্তত দুইমাস থাকতে হবে হাসপাতালে। এরপর আরও ছয়মাস বিশ্রামে থাকলে তার কাজের কি হবে সেটা নিয়ে এখনই তাকে ভাবতে হচ্ছে। মোবাইল ফোনে মিসবাহ বলেন, বাকিটা আল্লাহর হাতে, কিছুই বুঝতে পারছি না আমার ভবিষ্যত কী হবে।
