গোবিন্দপুর উবিতে যোগ দেয়নি অফিস সহকারী প্রবাসী সাইফুল

 

বিএনপি নেতাদের আত্মীয় পরিচয়দানকারী বিদ্যালয় সভাপতির আশ্রয়ে

এস এম সোহেল
প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় খুলেও ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী প্রবাসী মো. সাইফুল খন্দকার কর্মস্থলে যোগদান করেননি। সে গত বছরের করোনাকারীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সুযোগে সৌদি আরবে চলে যায়। বর্তমানেও সে প্রবাসেই অবস্থান করছে বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানান।
জানা গেছে, বিদ্যালয়টির সভাপতি হুমায়ুর কবির পাটোয়ারীর আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের যোগসাজশে বিভাগীয় অনুমতি না নিয়েই অফিস সহকারী সাইফুল প্রবাসে চলে যায়। কিন্তু সাইফুলের চাকরি বহাল রাখার জন্য সভাপতি কৌশল হিসেবে মেডিকেল ছুটি দেখায় এই অফিস সহকারীকে।
বিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণেই সংশ্লিষ্ট নিয়ম-কানুন ও বিভাগীয় অনুমোদন ছাড়াই সাইফুলকে প্রবাসে যেতে সহযোগিতা করে সভাপতি। এমনকি সাইফুলের এমন অনিয়মের সচিত্র প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও সভাপতি কোন ব্যবস্থাগ্রহণ করেননি এখন পর্যন্ত।
ইতোমধ্যে সভাপতি হুমায়ুর কবির পাটোয়ারী নিজকে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাড. সেলিম উল্যাহ সেলিম ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শরীফ মো. ইউনুছের নিকটাত্মীয় পরিচয় দিয়ে ইল্শেপাড়কে জানান, তিনি নিয়ম মেনেই অফিস সহকারী সাইফুলকে ছুটি দিয়েছেন। যা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানে।
কিন্তু বিদ্যলয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা জানান, বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি যখন চাঁদপুরের, তখন বিদ্যালয়টির সভাপতি শিক্ষামন্ত্রীকে বিতর্কিত করতেই এমন দুর্নীতির আশ্রয় নেন। এজন্যই তিনি নিজকে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নাম-পরিচয় দিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন।
ইল্শেপাড়ের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর কি ব্যবস্থা নিয়েছেন জানতে চাইলে ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলী আশ্রাফ জানান, বিদ্যালয় যেহেতু খুলছে শিঘ্রই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার গিয়াসউদ্দিন পাটোয়ারী ইল্শেপাড়কে জানান, দ্রুত সময়ে ঐ বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১।