জাটকা ধরলে জরিমানা নয়, জেল হবে
…….মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন
স্টাফ রিপোর্টার
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেছেন, আমাদের সবার বার্তা একটাই- আইন অমান্য করে জাটকা ধরলে এ দুই মাসের অভিযানে কোনো জরিমানা নয়, জেল হবে। এতে কেউ তদবির করবেন না। একার পক্ষে এ অভিযান সফল করা সম্ভব না। আমরা চাই না জেলেরা কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হোক। এ দুই মাসে আপনারা অনেক উৎপাদনশীলের কাজ করতে পারেন। এ অভিযান না মানলে আগামি ৫ বছর পর হয়তো নদীতে কোন মাছই পাবেন না।
রোববার (২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের মোলহেডে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের দু’মাসের অভিযানটি সফল করতে সর্বাত্মক ব্যবস্থাগ্রহণ করেছি। অভিযান চলবে ২ মাস, কিন্তু চাল দেয়া হয়েছে ৪ মাসের। আপনারা (জেলেরা) যেন লাভবান হতে পারেন সেজন্যেই এ অভিযান। অভিযান মেনে চললে ২ মাস পরে আমরা বড় মাছ পাওয়ার সুযোগ পাবো। চূড়ান্ত যে ফলাফল তা হচ্ছে দেশের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরো বলেন, আপনারা দয়া করে এই দু’মাস জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকুন। এসময় বরফ কলগুলো বন্ধ থাকবে এবং অবৈধভাবে ইলিশ বিক্রি হওয়া বাজারগুলো মনিটরিং করা হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে, যাতে ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করা যায়। ২৪ ঘণ্টা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর এই সুনাম জেলেদেরই ধরে রাখতে হবে। ইলিশের অভয়াশ্রমে নিজের বাড়িতে ইলিশ নিরাপদ থাকবে, বাঁধাপ্রাপ্ত হবে না। জেলেদের ধৈর্যধারণ করে ইলিশের অভিযান বাস্তবায়ন করতে হবে।
চাঁদপুর অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান জানান, নিষিদ্ধ সময়ে কোনো জেলে যেন অভয়াশ্রম এলাকায় মাছ ধরতে না নামে, তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি থাকবে। আইন অমান্য করে কেউ মাছ ধরতে নামলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযানের শুরুর দিন আইন অমান্য করে মাছ শিকারের কারণে দুটি মামলায় ৪ জন আটক হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আমিরুল ইসলাম, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত জামিল সৈকত, কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশন কমান্ডার সাব লেফটেন্যান্ট মো. ফজলুল হক।
সভায় বক্তারা ২৫ সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট ইলিশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং মার্চ-এপ্রিল দুই মাস জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম সফল করতে সকলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
জেলেদের সচেতন করার লক্ষ্যে সভা শেষে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে মেঘনা মোহনা থেকে একটি নৌ-র্যালি বের হয়। র্যালিতে জেলা টাস্কফোর্সের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলে পাড়ার মানুষ, মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে জেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যরা একসঙ্গে মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় নৌ-র্যালিতে অংশ নেন।
০৩ মার্চ, ২০২৫।
