চাঁদপুরে বাড়ছে কিশোর গ্যাং

জেলা পুলিশের কড়া হুঁশিয়ারি

ইল্শেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রবে সর্বসাধারণের মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে। কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব বৃদ্ধির কারণে অহরহ ঘটছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। সেই সাথে বাড়ছে আইন-শৃঙ্খলার অবনতিও। এতে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে সর্বমহলে উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও অনেকেই বলছে, মাদকের সহজলভ্যতার সাথে রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও অভিভাবকদের উদাসীনতায় কিশোর বয়সেই অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে বেশকিছু সম্ভাবনাময় তরুণ। যার প্রভাবে প্রায় চাঁদপুর শহরের অভ্যন্তরে ঘটছে একের পর এক সহিংশতা।
এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ তাদের তৎপরতা অব্যাহত রাখলেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। ইতোমধ্যে শহরের বেশ কয়েকটি অপরাধজনিত ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছে সর্বসাধারণ। পুলিশি তৎপরতায় বেশ কিছু কিশোর ও তরুণ আটক হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আবার অনেকের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব চাঁদপুরে কিশোর গ্যাং নির্মূলে কড়া হুঁশিয়ারী দিয়েছেন। তিনি পুলিশ সদস্যসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এ ব্যাপারে কঠিন নির্দেশনা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে আটক কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলাও হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিশোর গ্যং নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে যৌথবাহিনী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এতে করে জনমনে কমবেশি স্বস্তি ফিরছে বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করছে। তাদের এমন দাবির পেছনে বলা হয়েছে, গত শনিবার যৌথবাহিনীর অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ১১ সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন তারা।
ঐ অভিযানের আগে চাঁদপুর মডেল থানা ও জেলা ডিবি পুলিশের পৃথক পৃথক অভিযানে কয়েকজনকে আটক করা হয়। তাদের মাঝে তিনজনকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়। পরবর্তীতে তিনজনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনের মামলায় আদালতে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। যাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
এছাড়া জেলা পুলিশ বলছে, চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার সিএসডি গোডাউন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের ৩ সদস্যকে আটক করে দ্রুত বিচার আইনে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আটকের সময় অভিযুক্ত মো. তামিমের কাছ থেকে ১টি লোহার তৈরি রামদা, মো. সানজিদের কাছ থেকে ১টি চাইনিজ কুড়াল ও মো. মাঈন উদ্দিনের কাছ থেকে ১টি স্টিলের তৈরী চাপাতি উদ্ধার করে পুলিশ।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. বাহার মিয়া জানান, কিশোর গ্যাং নির্মূলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব স্যারের নির্দেশে চাঁদপুর শহরসহ অন্যান্য স্থানে কিশোর গ্যাং সদস্যদের আটক করা হবে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে কেউ ঘোরাফেরা করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে হঠাৎ কিশোর গ্যাংয়ের এমন তৎপরতা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে অনেকেই চিহ্নিত করেছেন, পতিত ফ্যাসিস্ট একদলীয় শাষণের অবসান ঘটলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চেইন অব কামান্ড ভেঙ্গে পড়লে একদল সুবিধাভোগী গুষ্ঠী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পরিস্থিতি ঘোলা করে জনমনে ভয়ভীতি ছড়িয়ে দিতেই ত্রাস সৃষ্টি করছে। এতে উঠতি বয়সী শিক্ষার্থী কিংবা মাদকাসক্তদের ব্যবহার করা হয়। সাথে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া ও নিজদের শক্তি প্রদর্শনের সাথে রাজনীতির মাঠে অবস্থান জানান দিতে চায়। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাদক কিংবা আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করেই কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব বাড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ স্ব-স্ব স্থান থেকে নিজ নিজ সন্তানদের গতিবিধি নজরদারী করলে পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি করা সম্ভব হবে বলে অনেকেই মত দিয়েছেন।

১৯ নভেম্বর, ২০২৪।