চাঁদপুরে সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধকালীন কমান্ডারদের সংবাদ সম্মেলন

মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদ ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এম এ ওয়াদুদের বিভিন্ন কুকীর্তি, প্রতারণা ও বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক রশিদের ফ্রিডম পার্টিতে যোগদানসহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধকালীন কমান্ডারবৃন্দ। গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বাহিনীর যুদ্ধকালীন কমান্ডারের পক্ষে যুদ্ধকালীন কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম রব লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন।
নিম্নে তা তুলে ধরা হলো- জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এম এ ওয়াদুদেরর বিরুদ্ধে ভুয়া লেফটেনেন্ট পদবী ব্যবহার, এমএফ বাহিনীর যুদ্ধকালীন কমান্ডার দাবি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও বর্তমান চাঁদপুর জেলা ইউনিট কমান্ডার দাবি করে প্রতারণা করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে বরাদ্দকৃত সম্পত্তির নিজ নামে আত্মসাৎ, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দোকান বরাদ্দ ও ভাড়ার টাকা তসরুফ এবং মদ ও জুয়ার আড্ডা পরিচালনা করে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বিশেষ করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেট প্রদান, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, নিজের নামের আগে লেফটেন্যান্ট ব্যবহার নিয়ে প্রতিবাদ জানান মুক্তিযোদ্ধারা। তিনি ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির কৃষি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তীতে ফ্রিডম পার্টি যোগদান করেন।
এছাড়া ২০১৭ সালের পর থেকে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডারের দায়িত্বে না থেকে নিয়মিত সংসদে যাওয়া ও কমান্ডার পরিচয়ে নানা ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় নিন্দা জানান মুক্তিযোদ্ধারা। একই সাথে তার ছোট ভাই মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ কুদ্দুছও ফ্রিডম পার্টির সাথে জড়িত থাকা এবং নানা ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িত থাকার ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধারা নিন্দা জানান। তারা এ ঘটনায় অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে যুদ্ধকালীন কমান্ডার মো. মমিন উল্যাহ পাটওয়ারী বীর প্রতীক বলেন, আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। অনেক ধৈর্য্য ধরেছি। তাই, অনেক দেরিতে হলেও এখন আমরা সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হয়েছি। আমরা প্রকৃত সত্য তুলে ধরেছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আয়শা বেগম নামের এক নারী।
ভুক্তভোগী আয়শা বেগম জানান, আমি সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। আমাকে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দেয়ার কথা বলেন ওয়াদুদ ২ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু আদৌ সেই সার্টিফিকেট হাতে পাইনি। আমি এখন সেই টাকা দাবি করছি। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে, শুধু টালবাহানা করেন।
আরেক ভুক্তভোগী মায়া রানী বলেন, তার বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলায়। তার সাড়ে ১৩ একর সম্পত্তি দখল করে দু’টি ইট-ভাটার ব্যবসা করছে এমএ ওয়াদুদ ও এমএ কুদ্দুছ। হুমকি ও ভয়-ভীতির কারণে তিনি এখন পার্শ্ববর্তী কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন বিএলএফ কমান্ডার হানিফ পাটোয়ারী ও মিঞা মো. জাহাঙ্গীর আলম।
সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শহীদ পাটওয়ারী, সাবেক সভাপতি শরীফ চৌধুরী, ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন মিলন, রহিম বাদশা, সোহেল রুশদী, দৈনিক ইল্শেপাড়ের যুগ্ম-সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শান্ত প্রমুখ। এসময় চাঁদপুরে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকসহ মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এম এ ওয়াদুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো মিথ্যা। এগুলোতে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। আর চলমান অভিযোগগুলোও নিষ্পত্তির পথে। তিনি বলেন, একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারাই এগুলো নিয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছে।