চাঁদপুরে ৭ লাখ ৩১ হাজার শিক্ষার্থীকে কৃমি ট্যাবলেট খাওয়ানো টার্গেট
এস এম সোহেল :
চাঁদপুরে জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ উপলক্ষে এ্যাডভোকেসি ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজকের শিশু আগামি দিনের দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যৎ কর্ণধার এ শিশুদের সুস্থ ও সুন্দর জীবন গড়ার মধ্য দিয়ে একটি সবল জাতি গঠনই এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। এ শিশুরা যেন অকালে ঝড়ে না পড়ে সেদিকে আমাদের সবার সজাগ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। এজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন গণসচেতনতা। তাদের সুস্থ সবল ও মেধা সম্পন্নভাবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সব ভালো কাজে বিতর্ক থাকে, আমাদের বিতর্ককে উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা সবাই একটু সচেতন হলে দেশে থেকে যে কোন বড় ধরনের রোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবো। জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ কর্মসূচি আমাদের দেশের জন্য আশীর্বাদ। আমরা চাই ৫ থেকে ১৬ বছরের ছেলে-মেয়েদের পেটে আর কৃমি থাকবে না। কৃমি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আজকের শিশু আগামি দিনে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যৎ কর্ণধার এ শিশুদের সুস্থ ও সুন্দর জীবন গড়ার মধ্য দিয়ে একটি সবল জাতি গঠনই এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। এ শিশুরা যেন অকালে ঝড়ে না পড়ে সেদিকে আমাদের সবার সজাগ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। এজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন গণসচেতনতা। তাদের সুস্থ, সবল ও মেধা সম্পন্নভাবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, কৃমি সাধারণত ৩ প্রকারের হয়ে থাকে। তা হলো গোল কৃমি, বক্র কুমি ও চাবুক কৃমি। চাঁদপুর জেলায় ২ ধাপে ৭লাখ ৩১ হাজার শিক্ষার্থীকে কৃমি ট্যাবলেট খাওয়ানো হবে। প্রথম ধাপ হচ্ছে ৫ থেকে ১২ বছর প্রাথমিক পর্যায়ে ৪ থেকে ৯ নভেম্বর এবং ২য় ধাপ হচ্ছে ১২ থেকে ১৬ বছর মাধ্যমিক পর্যায় ১৬ থেকে ২৩ নভেম্বর। এবারে দু’টি ধাপে সপ্তাহব্যাপী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫-১৬ বছরের সব শিক্ষার্থী এবং স্কুল শিশুদের বিনামূল্যে কৃমি নাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হবে। এটি খালি পেটে খাওয়ানো যাবে না। খাওয়ার পর শিশুরা বমি করলে ভয়ের কিছু নেই। কৃমি মানুষের পেটে পরজীবী হিসেবে বাস করে এবং খাবারের পুষ্টিটুকু খেয়ে ফেলে, তাই মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভোগে। কৃমি পেট থেকে রক্ত শোষণ করে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির ব্যাঘাত ঘটায়। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতে বাদ না যায় এ জন্য তিনি সংস্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। স্বাস্থ্য সেবা আমাদের মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার আমাদের মৌলিক অধিকার গুলোর বিষয়ে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমাদের দেশে আগে কলেরা ও বসন্ত হলে গ্রামের পর গ্রাম উজার হয়ে যেত। এখন আর তা নেই। মানুষ সচেতন হয়েছে। সুস্থ সবল জাতি ছাড়া দেশ এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আগামি দিনের কর্মসূচিগুলোতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য ও প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিষয়বস্তু তুলে ধরেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ম্যাডিকেল অফিসার ডা. আশরাফ আহমেদ চৌধুরী।
সদর উপজেলার ম্যাডিকেল অফিসার ডা. মো. গোলাম কাউছারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ইউনূছ ফারুকী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শরীফ চৌধুরী, সাধারণ সমম্পাদক জিএম শাহীন, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কবির উদ্দিন, জেলা তথ্য অফিসার মোহাম্মদ নূরুল হক, ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম শিপন, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগম, ফরিদগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মনিরুজ্জামান খান, হাইমচর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম মীর হোসেন, হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. সফিউল ইসলাম সোহেল, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মানিক লাল মজুমদার, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইউছুফ। এসময় বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অফিসারা ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ডাক্তাররা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চাঁদপুর জেলায় আগামি ৪ থেকে ৯ নভেম্বর ১ম পর্বে ৫ থেকে ১২ বছর বয়সের শিশু এবং ১৬ থেকে ২৩ নভেম্বর ২য় পর্বে ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সের সব শিশুকে সারাদেশের মতো চাঁদপুরেও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হবে।
- Home
- স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
- জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহের এ্যাডভোকেসি ও পরিকল্পনা সভা