মতলব দক্ষিণে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে স্বামী-স্ত্রীসহ ৫ জন আহত

২ জন আইসিইউতে ভর্তি

মাহফুজ মল্লিক/মোজাম্মেল প্রধান হাসিব
মতলব দক্ষিণে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে স্বামী-স্ত্রীসহ একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের খর্গপুর গ্রামের তজিম উদ্দিন প্রধানীয়া বাড়িতে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন- কামরুল হোসেন (৫০), তার স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৮), মেয়ে ফাহিমা আক্তার (১৮), ফারিয়া আক্তার (১২) ও ছেলে জুনায়েদ হোসেন (৮)। আহতদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় মঙ্গলবার রাতেই চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে রহিমা বেগম ও ফারিয়া আক্তার আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের খর্গপুর গ্রামের তজিম উদ্দিন প্রধানীয়া বাড়ির কামরুল হোসেনের স্ত্রী রহিমা বেগম রান্না করার জন্য ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের চুলায় আগুন জ্বালাতে যায়। হঠাৎ করে ওই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে মুহূর্তেই পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এসময় আগুনে কামরুল হোসেন, তার স্ত্রী রহিমা বেগম, মেয়ে ফাহিমা আক্তার, ফারিয়া আক্তার ও শিশু সন্তাান জুনায়েদ হোসেনের শরীর ঝলসে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাদের ডাকচিৎকারে বাড়ির লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাদের অবস্থা গুরুতর দেখে হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক ঢাকায় প্রেরণ করেন। এসময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের আগুনে কামরুল হোসেনের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আহত কামরুল হোসেনের ভাতিজা মো. মেহেদী হাসান জানান, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ আমার চাচি রহিমা বেগম ও চাচাতো বোন ফারিয়ার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে রাখা হয়েছে তাদের।
এদিকে কামরুল হোসেনের বসতঘরে আগুন লাগার খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আসাজ্জামান নূর বলেন, সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ে আসেন। আগুনে পুড়ে যাওয়া দগ্ধদের স্থানীয়দের সহায়তায় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

২৫ মে, ২০২৩।