
স্টাফ রিপোর্টার
শাহরাস্তি উপজেলার খেড়িহরে ডাকাতির মামলায় মজিবুর রহমান বেপারীকে মৃত্যুদণ্ড এবং মো. আবুল কাশেম, আনোয়ার হোসেন, মাহবুবুর রহমান ও কামালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আবুল কাশেমকে পৃথক ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তার উভয় দণ্ড একই সময়ে কার্যকর হবে।
গতকাল সোমবার দুপুর ১টায় চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. জুলফিকার আলী খাঁন এই রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুজিবুর রহমান খেড়িহর পূর্ব পাড়ার মঞ্জুর আহমেদের ছেলে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আবুল কাশেম মৃত হাসমত উল্যাহর ছেলে, আনোয়ার হোসেন মো. চাঁন মিয়ার ছেলে, মাহবুবুর রহমান মৃত আব্দুল¬াহ মাস্টারের ছেলে। তাদের বাড়ি খেড়িহর গ্রামে এবং কামাল কুমিল্ল¬া জেলার মনোহরগঞ্জ থানার নরপাইয়া পূর্ব পাড়ার মৃত শাহ আলমের ছেলে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক দেড়টায় উপজেলার খেড়িহর গ্রামের মো. ফারুক এর বসতঘরে অধিকাংশ মুখোশধারী একদল ডাকাত অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে ডাকাতি করতে আসে। ওই সময় ঘরে থাকা লোকজন টের পেয়ে ডাক-চিৎকার করলে জেঠাৎ ভাই তাজুল ইসলাম এগিয়ে আসে। তখন উপস্থিত ডাকাতরা তাজুলকে ইট-পাটকেল মারে এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। ঠিক ওই মুহূর্তে তাজুলের বাবা বুদরুছ ঘরের দরজা খুলে বের হলে ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এই সময় ডাকাতের তান্ডবে প্রত্যেক পরিবারের লোকজন এলোমেলো অবস্থায় ছুটাছুটি করলে ডাকাতরা ফারুকের ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী ঝর্ণা বেগমের শরীরে অস্ত্র ঠেকিয়ে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।
অপরদিকে গুলিবিদ্ধ তাজুল ইসলামের বাবা বুদরুছকে আহত অবস্থায় স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রহিমের কাছে নিয়ে যায়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ওইদিনই শাহরাস্তি থানায় ৩৯৬ ধারায় মামলা দায়ের করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার তৎকালীন সময়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. নুরুল আফসার ভূঁইয়া তদন্ত শেষে উল্লেখিত আসামিদের ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে প্রমাণ পাওয়ায় ২০০৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আমান উল্যাহ বলেন, মামলায় প্রথমে আসামি ৬ জন থাকলেও আবুল খায়ের নামে একজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরববর্তীতে মামলাটি দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর চলমান অবস্থায় ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে বিচারক ৩৯৬ ও ৪১২ ধারায় আসামিদের পৃথক সাজায় দন্ডিত করেন।
দন্ডিত আসামিদের মধ্যে মজিবুর রহমান, আবুল কাশেম ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছে এবং বাকি দুই আসামি মাহবুবুর রহমান ও কামালের উপস্থিতিতে এই রায় দেন আদালত।
সরকার পক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ছিলেন মোক্তার আহম্মেদ। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. সেলিম আকবর, অ্যাড. আনেয়ার গাজী ও অ্যাড. রাজেশ মুখার্জি।