শাহরাস্তির বাদিয়া এম. হক উবিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবন

বৃষ্টি নামলে ক্লাস বন্ধ, শ্রেণিকক্ষ সংকটে শিক্ষাক্রম ব্যাহত

নোমান হোসেন আখন্দ
শাহরাস্তির ঐতিহ্যবাহী বাদিয়া এম হক উচ্চ বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবন এবং শ্রেণিকক্ষ সংকটে প্রতিনিয়তই শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ, বিজ্ঞানাগার, জরাজীর্ণ টিনের চালার নিচে হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে পানি পড়ে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়ে কোন প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামসুল হুদা পাটোয়ারী। বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী চৈতী রাণী সূত্রধর রোল (৪), নুসরাত জাহান রোল (৫), মেহেরাজ হোসেন রোল ( ৩৩), নাবিলা আক্তার রোল (১৬), নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সালমা আক্তার রোল (৪), আাদিল হাসান রোল (১), ইসমে আলম রোল (১৫) ও রাবেয়া সুলতানা রোল (৩) জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকটে প্রতিনিয়তই আমাদের ক্লাস করতে বিঘ্ন ঘটছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের বই খাতা স্কুল ব্যাগ ও জামা কাপড় ভিজে যায়। তখন শিক্ষকরা ক্লাস বন্ধ করে দেন। প্রতিদিন আমাদের এ সমস্যা হচ্ছে। এভাবেই চলতে থাকলে আমরা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়বো।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার রোল (৪), সামির আহমেদ রোল (১০), সাদিয়া সুলতানা রোল (২), ইমতিয়াজ হাসান রোল (৩), সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাবিকুন নাহার রোল (১), বিবি হাওয়া রোল (২), আতিক হাসান রোল (১০) ও আরাফাত হোসেন রোল (৭) জানান, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন ক্লাস করতে আমাদের ভয়ে ও আতঙ্কে থাকতে হয়। মনে হয় কোন সময় জানি আমাদের গায়ে পড়ে। ভবনের বড় বড় ফাটল ক্লাসকক্ষ ও বারান্দার ফ্লোর দেবে যাওয়ায় আমরা চলাচলের সময় প্রতিদিনই পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছি। হাত-পা ও কোমরে আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামসুল হুদা পাটোয়ারী জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকটে আমরা প্রতিনিয়তই হিমশিম খাচ্ছি। এতে শিক্ষার্থীদের চলমান শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জরাজীর্ণ টিনের চালার প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষটি সামান্য বৃষ্টি হলেই বসার অযোগ্য হয়ে পড়ে। আসবাবপত্র, মূল্যবান কাগজপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কক্ষ বিজ্ঞানাগারের মূল্যবান জিনিসপত্র আসবাবপত্র বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে পড়েছে।
শ্রেণিকক্ষ সংকটে শিক্ষকরা বিদ্যালয় মাঠ ও বারান্দায় ক্লাস নেয়া যেত। বর্ষাকাল হওয়ায় বাইরে ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বড় বড় ফাটল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে প্রতিনিয়তই আতঙ্ক বিরাজ করছে। একটি ভবনের ঊর্ধ্বমুখী ভবন ও নতুন ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। আমরা শিক্ষামন্ত্রী, সংসদ সদস্য মহোদয়, শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন ও ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারিত ভবন প্রদানের জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি।

০৯ জুলাই, ২০২৪।