শাহ আলম খান
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেছেন, মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিয়ে ও জঙ্গিবাদ বিষয়ে প্রত্যেক জুমার নামাজের খুতবায় মসজিদের খতিবদের আলোচনা করা একান্ত প্রয়োজন। কারণ মসজিদের ইমামরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে সমাজে দ্রব্যমূল্য নিয়ে যেসব গুজব ছড়াচ্ছে এসব বিষয়ে ইমামরা সবাইকে সতর্ক করে দিবেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউবের মাধ্যমে কেউ কেউ ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন সেসব বিষয়গুলো আপনারা এড়িয়ে চলবে এবং তার থেকে সতর্ক থাকবেন।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় চাঁদপুর সার্কিট হাউজে চাঁদপুর জেলার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, সন্ত্রাস, নাশকতা, জঙ্গিবাদ দমন, মানব পাচার, মাদক, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, দেশে ইসলামী মূল্যবোধ ও ইসলামী সাংস্কৃতি চর্চা দাঁড় করানোর জন্য ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ উদ্যোগ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য সৌদি সরকারের সাথে মৌখিক প্রকল্পের চুক্তিনামা হয়। কিন্তু ওই চুক্তিনামা সৌদি সরকারের সঙ্গে ভঙ্গ করার কারণে প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেশীয় অর্থায়নে এই মডেল মসজিদের কাজ আরম্ভ করেন। ৪৩৭টি মসজিদ নির্মাণ কাজের দরপত্র ইতোমধ্যে আহ্বান করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫৭টি মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এরমধ্যে চাঁদপুরে মডেল মসজিদ নির্মাণ হবে ৯টি।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র মডেল মসজিদ নয়, এটি একটি কমপ্লেক্স। এর মধ্যে হাফেজিয়া মাদ্রাসা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়, প্রথম শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত দারুল আরকাম মাদ্রাসা বিভাগ, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান এবং ইসলামিক সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র থাকবে এই কমপ্লেক্সে।
সচিব আনিছুর রহমান বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য বর্তমান সরকার ১৮২২ মন্দির নির্মাণ করেন। এসব মন্দির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে। ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির প্রচেষ্টায় চাঁদপুরে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য পৌর ঈদগাহ’র পাশে মডেল মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু হলে ২০২০ সালের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে।
তিনি আরো বলেন, চাঁদপুরে মডেল মসজিদ নির্মাণ করার জন্য ৯টি মসজিদের মধ্যে ৪টি মসজিদ নির্মাণ করার জন্য স্থানীয়রা সম্পত্তি দান করেছেন। যিনি দুনিয়াতে আল্লাহর ঘর তৈরী করবেন, আখিরাতে আল্লাহ তার জন্য একটি ঘর তৈরী করবেন।
জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন চাঁদপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. খলিলুর রহমান, জেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রহমান, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট্রের সহকারী পরিচালক অমিত সরকার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ শওকত ওসমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম জাকারিয়া, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দাউদ হোসেন চৌধুরী, চাঁদপুর আহমাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যক্ষ মাও. জসিম উদ্দিন, খতিব আব্দুর রশিদ তালুকদারসহ বিভিন্ন মাদ্রাসা ও মসজিদের অধ্যক্ষ এবং খতিববৃন্দ।
- Home
- চাঁদপুর
- চাঁদপুর সদর
- সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধক বিষয়ে ইমামরা খুতবায় আলোচনা করবেন …………ধর্মসচিব আনিছুর রহমান