সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের ৩ যুবক নিহত

সাহেদ হোসেন দিপু
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের ৩ যুবক নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন- হাইমচর উপজেলার চরভাঙ্গা গ্রামের ইসমাইল ছৈয়ালের ছেলে সাব্বির, তার খালাতো ভাই কমলাপুর গ্রামের দেলোয়ার গাজীর ছেলে রিপাত ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিশকাঠালি গ্রামের জামাল চৌকিদারের ছেলে সবুজ। তাদের মৃত্যুতে উপজেলাজুড়ে বইছে শোকের মাতম। পরিবারের রোজগারের একমাত্র সম্বল ছেলেদের জীবিত পাবে না জেনেও মৃত সন্তানের লাশ নিজ হাতে দাফন করতে চায় পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় সৌদিআরব থেকে ফোন আসে ৩ যুবক কাজ করতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। নিহত তিন যুবক সৌদিআরব আল আলাফিপ শহরে থাকতেন। সৌদিআরব সময় সকাল ১০টার সময় সবুজ তার নিজস্ব গাড়িতে করে নিজে ড্রাইভিং করে কন্সট্রাকশন কাজ করার উদ্দেশে তাদের নিয়ে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে গাড়িটির সামনের একটি চাকা খুলে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনাস্থলে গাড়ির চালক সবুজ মারা যায়। অপর দুই খালাতো ভাই স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত সাব্বিরের বাবা ইসমাইল ও তার মা জানান, তাদের ছোট ছেলে সাব্বির জীবিকার তাগিদে গত ৪ বছর আগে সৌদিআরবে পাড়ি জামান। তার দুই সন্তানের ছোট ছেলেকে তারা সারাজীবনের জন্য হারিয়ে ফেলেছেন। তারা তাদের সন্তানকে জীবিত পাবে না, তবে মৃত সন্তানের লাশ নিজ হাতে দাফন করতে চায় তারা। সন্তানের লাশ দ্রুত তাদের কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।
নিহত রিফাতের বাবা দেলোয়ার গাজী জানান, তাদের একমাত্র ছেলে রিপাত। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব। টাকা-পয়সা কিছু চায় না, শুধু ছেলেকে নিজ হাতে দাফন করতে চায়।
নিহত সবুজের বাবা জামাল চৌকিদার জানান, তার ৫ সন্তানের সবার বড় ছেলে সবুজ। তার আয়কৃত টাকায় তার পুরো সংসার চলতো। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়েছে। ৫ বছর যাবত তার সন্তান সৌদিআরবে রয়েছে। সংসারের সবকিছু সেই দেখতো। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী সবুজ ছিল তাদের কালো মানিক। কালো মানিক সবুজকে তারা কই পাবে, কোথায় পাবে? তার লাশ কী তারা দেখতে পাবে কীনা- এ ভেবেই আহাজারি করছে তার মা। ছেলের লাশ যেন তারা দেখতে পায়- এই আশায় বুকে পাথর বেঁধেছে তারা।

১৫ জুন, ২০২৪।