হাইমচরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে ৪ শতাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত

আব্দুর রহমান/সাহেদ হোসেন দিপু
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ভয়াবহ তাণ্ডবে দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ৪ শতাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ঘর-বাড়িসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলেও কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
গত রোববার বিকেল ৩টায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল প্রচন্ড ঝড়ো বাতাস নিয়ে হাইমচরে আঘাত হানে। ঝড়ের আঘাতে গাছ-পালা পড়ে বিভিন্ন সড়কে যাতায়াত বন্ধ ছিল দীর্ঘক্ষণ। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ইনচার্জ জিএম আমির হোসেনের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাস্তা-ঘাট পরিস্কারসহ উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। হাইমচর ইউনিয়নের ৩৫নং মধ্য চর-কোড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এমজেএস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন উড়ে গেছে। এছাড়া আলগী উত্তর ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের লালু মিয়া সরদারের ছেলে নুরুল ইসলাম ও শুক্কুর সরদারের ছেলে শাহিন সরদারের বসতঘরে গাছ পড়ে ঘর দু’টি বিধ্বস্ত হয়েছে।
হাইমচর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত সরকার জানান, আমার ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ কমপক্ষে ২ শতাধিক বসত-ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গুচ্ছগ্রামের ২৫টি ঘরের ছাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে কোন মানুষজনের হতাহতের সংবাদ আমি এখনও পাই না।
নীলকমল ইউপি চেয়ারম্যন সালাউদ্দিন সরদার জানান, আমার এখানে ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছ-পালাসহ ফসলের অসংখ্য ক্ষতি হয়েছে, যা বলার মত না। তবে লোকজন হতাহত হওয়ার সংবাদ এখনো পাইনি।
গাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান গাজী জানান, আমার এলাকায় মাছের আড়তসহ ৫০টি বসতঘরের ক্ষতি হয়েছে। কৃষকের ফসলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোন লোকজন আহত হওয়ার সংবাদ পাইনি।
চরভৈরবী ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ আলি মাস্টার জানান, চরভৈরবীতে ২/৪টি ঘর বিধ্বস্ত হওয়া ছাড়া তোমন কোন ক্ষতি হয়নি। তবে কিছু-কিছু এলকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হতাহতের কোন সংবাদ পাইনি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিনুর রশিদ বলেন, হাইমচরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবলীলায় ৪ শতাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে, তবে তার পরিমাণ এখনো নির্ণয় করা হয়নি।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী বলেন, হাইমচরের নদীর ওপাড়ের গাজীপুর, নীলকমল ও হাইমচর ইউনিয়নে ৩ শতাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্তসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া নদীর এ পাড়ের আলগী দক্ষিণ, আলগী উত্তর ও চরভৈরবী ইউনিয়নে গাছ-পালা পড়ে ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে হাইমচরে ৪শ’র উপরে ঘর-বাড়ির ক্ষতি হয়েছে।
আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে গতকাল (শনিবার) থেকেই আশ্রিত লোকদের শুকনো খাবার প্রদানসহ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থেকে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করে আসছি। আমরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের সম্পর্কে জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে শীঘ্রই পাঠাবো। আশা করি খুব দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সাহায্য-সহযোগিতা পাবেন।