হাজীগঞ্জে পিকআপ-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-ছেলের মৃত্যু

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে পিকআপ ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা আবু তাহের মোল্লা (৫৫) ও তার ছেলে মামুন হোসেন মোল্লার (২৫) মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন স্কুটারের অপর ৩ যাত্রী। সোমবার (৬ মে) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের গোগরা এলাকার চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবু তাহের মোল্লা ও তার ছেলে মামুন হোসেন মোল্লা হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পয়ালজোশ গ্রামের মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা। আহতরা হলেন- নিহত আবু তাহের মোল্লার বড় ভাই কেরামত আলী (৭৫) এবং একই ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের শাহআলম (৬০) ও মনির হোসেন (৬০)। তারা বর্তমানে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের স্বজন আল-আমিন জানান, নিহত বাবা-ছেলেসহ ৫ জন সিএনজিচালিত স্কুটার (চাঁদপুর-থ-১১-৪৫৮২) যোগে চাঁদপুর সদর উপজেলার সফরমালি গরুর বাজার থেকে হাজীগঞ্জে নিজ বাড়ির উদ্দেশে ফিরছিলেন। ওই সময়ে হাজীগঞ্জে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। এই বৃষ্টির মধ্যেই সিএনজিটি বাকিলা ইউনিয়নের গোগরা নামক স্থানে আসলে বিপরীত দিক থেকে আসা চাঁদপুরমুখী একটি পিকআপের (চট্ট-মেট্রো-ড-১১-১৪২২) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে ঘটনাস্থলেই তার চাচা আবু তাহের মোল্লা ও চাচাতো ভাই মামুন হোসেন মোল্লা নিহত হন এবং জেঠা (চাচা) কেরামত আলীসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারের হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি বলেন, আবু তাহের মোল্লা ও মামুন মোল্লা সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। নিহত ও আহতরা সবাই সফরমালি গরুর বাজারে গরু বিক্রি করে হাজীগঞ্জে ফিরছিলেন।
খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার এসআই মো. খুরশিদুল আলম ও জাফর আহমেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং নিহত বাবা-ছেলের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। একই সময়ে তারা দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ ও সিএনজিচালিত স্কুটার থানা হেফাজতে নিয়ে আসেন।
এসময় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস শীল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌ. মো. জাকির হোসেন ও হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদসহ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।
এ ব্যাপারে বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন জানান, দুপুর দেড়টার দিকে বৃষ্টির সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর আমরা নিহত এবং আহতদের পরিচয় জানতে পেরেছি। নিহত ও আহতরা সবাই ছিলেন গরুর ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছু টাকা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। যা আমার হেফাজতে আছে। বিষয়টি আমি উপজেলা প্রশাসন ও থানায় জানিয়েছি।
নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ জানান, প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যেই পিকআপ ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যান। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ ও সিএনজি থানা হেফাজতে নিয়ে আনা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। দুর্ঘটনার পর পিকআপের চালক পালিয়ে যান।
তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে বাবা-ছেলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। এসময় তিনি সব পরিবহন চালকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বৃষ্টির মধ্যে গাড়ির গতি কমিয়ে চলাচল করার অনুরোধ জানান।

০৭ মে, ২০২৪।