হাজীগঞ্জে বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটের আগুনে পুড়লো ৮ দোকান

৩ দিনের ব্যবধানে আবারও আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জের কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের রামপুর বাজারে আগুনে পুড়ে ভস্মিভূত হলো ৮টি দোকানঘর। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে অগ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আর বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও ফায়ার সার্ভিস।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন, ওই বাজারের ব্যবসায়ী ও বানিয়াকান্দি গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেন, বাজনাখাঁল চাঁদপুর গ্রামের মোহাম্মদ সেলিম ও একই গ্রামের মো. ফখরুল, নোয়াহাটা গ্রামের মো. খোকন ও একই গ্রামের আনোয়ার হোসেন, সৈয়দপুর গ্রামের অরুণ কর্মকার, মো. সোহেল ও একই গ্রামের হরি কর্মকার।
জানা গেছে, এ দিন রাতে রামপুর বাজারের একাধিক দোকানে আগুন জ¦লতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয় এবং নিজেরা আগুন নিভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতার কাছে সবাই অসহায়। কিছুক্ষন পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
তবে এর মধ্যেই ৫টি দোকানঘর সম্পূর্ণ পুড়ে কয়লা এবং তিনটি দোকানঘর পুড়ে ও পানিতে ভিজে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৫টি দোকান কনফেকশনারী, মুদি ও ভ্যারাইটিজ মালামাল, ১টি ফল এবং ২টি স্বর্ণের দোকান রয়েছে।
এ বিষয়ে রামপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রোটা. এস.এম মানিক জানান, রামপুর উত্তর বাজারের সৈয়দপুর রোডে ৮টি দোকানঘর পুড়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে নিঃস্ব হয়েছেন ৮জন ব্যবসায়ী তিনি বলেন, এই দোকানগুলোই ছিলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের একমাত্র আয়ের উৎস। কিন্তু তাদের সব শেষ।
এদিকে রোটা. এস.এম মানিকের মুঠোফোনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে টেলিকনফারেন্সে কথা বলেন, চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জÑশাহরাস্তি) নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম। এসময় তিনি ব্যবসায়ীদের সমবেদনা জানান এবং তাদের পাশে থাকার কথা বলে সহযোগিতার আশ^াস দেন।
উল্লেখ্য, এর আগে রোববার (১২ মে) দুপুরে পৌরসভাধীন ৯নং ওয়ার্ডের কংগাইশ গ্রামের পূর্বপাড়া কাজী বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিটের আগুনে পুড়ে ৪টি বসতঘর সম্পূর্ণ ভূস্মীভূত ও ১টি বসতঘরের আংশিক ক্ষতি হয়। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ওই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
তারা হলেন, ওই বাড়ির ইদ্রিস আলীর ছেলে মোস্তফা কাজী, খলিলুর রহমানের ছেলে ইউনুস কাজী, চেরাগ আলীর ছেলে জামাল হোসেন ও ইউনুছ কাজী এবং আব্দুল খালেকের ছেলে আজাদ কাজী। ওই সময়ে আগুনে শরীফা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা নারী আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

১৯ মে, ২০২৪।