
স্টাফ রিপোর্টার
‘এসো মিলি মুক্তির মোহনায়’ এ শ্লোগান নিয়ে মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় স্মৃতিচারণ পরিষদের ব্যবস্থাপনায় মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্মৃতিচারন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাসদ কেন্দ্রিয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. রবিউল আলম।
তিনি স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে বলেন, আমরা মুজিব বাহিনীর প্রথম ব্যাচে ট্রেনিং নিয়েছিলাম। ২৫ মার্চ রাতে আমরা খবর পাই আমাদের উপর হামলা হবে এবং গণহারে আটক করা হবে। ওই সময় বিদ্রোহ করতে গিয়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। যুদ্ধে কাদা, কোমর সমান পারির মধ্যে যুদ্ধ করতে হবে। যুদ্ধ বরতে গিয়ে কোন রাতে খাবার খেয়েছি, আবার কোন কোন রাত না খেয়ে থাকতে হয়েছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে গ্রামের মা-বোনরা আমাদের সহযোগিতা করেছে। তাদেরও মুক্তিযুদ্ধের গৌরব হিসেবে মর্যাদা দেয়া উচিত। আমরা কাদা মাটি দিয়ে যুদ্ধের সময় মানুষর বাড়িতে গিয়েছি। তাদের ঘরে খাবার ছিল না আমরা বাজার করে এনে তাদের দিয়ে রান্না করে খেতাম। মাইলের পরে মাইল পায়ে হেটে যুদ্ধ করেছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলো সাধারণ মানুষ তাদের নিজের সন্তানের চেয়ে বেশি যত্ন রাখতে। চৌগাছার যুদ্ধ আমার স্মরণীয়। সেখানে কোন গাছফালা ছিল না। সব মাটিতে শুয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের আক্রমনে সেখানে পাকিস্তানিরা পিছু হটে খুলনার দিকে পালিয়ে যেতে থাকে। তখন ছিল ডিসেম্বরের ৫ তারিখ। যশোরের মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতার অন্যতম স্বাক্ষী। সেখানে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দিন আমাদের কাছে এসেছিলেন। শহীদ উল্লাহ কায়সার সেখানে ছবি তুলেছিলেন। এসব ছাড়াও যুদ্ধের অনেক স্মৃতি আমাদের মনে গেঁথে রয়েছে। যা বলেও শেষ করা যাবে না।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ কমিটির সদস্য সচিব মো. ইয়াকুব আলী মাস্টারের সভাপতিত্বে এবং চাঁদপুর জেলা জাসদের ¯^াস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মাসুদ হাসানের পরিচালনায় স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ক্রীড়া সংগঠক মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বাবুল, চাঁদপুরের কৃতী সন্তান মুক্তিযোদ্ধা ডা. এস এম মনসুর আহমেদ, জেলা জাসদ সভাপতি অধ্যাপক হাসান আলী শিকদার, বিজয় মেলার স্টিয়ারিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মহসিন পাঠান।
