একটি প্রতিষ্ঠানের ১২০ বছর পূর্তি সত্যিই ঈর্ষনীয়

বাবুরহাট উবি ও কলেজের দশ যুগপূর্তি উদযাপনে সবুর খান

স্টাফ রিপোর্টার
জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে পর্দা উঠেছে চাঁদপুর জেলার দ্বিতীয় প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের দশ যুগপূর্তি ও দ্বিতীয় পুনর্মিলনী উৎসব। এদিন সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে উঠে গোটা বাবুরহাট এলাকা। বর্ণিল র‌্যালির পর পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ানো হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সবশেষে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর মাঝে বর্ণিল আতশবাজির ঝলকালি বাবুরহাট ও আশপাশের এলাকা মাতিয়ে তোলে।
উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক শহীদ উল্লাহ মাস্টারের সভাপ্রধানে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উৎসবের মুখ্য আলোচক ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থী ড. মো. সবুর খান। তিনি তার বক্তব্য বলেন, একটি বিদ্যালয়ের ১২০ বছর সতিই ঈর্ষণীয়। আমি এই বিদ্যালয়ের ছাত্র হয়েও গর্বিত। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা একত্রিত হতে পারছি, একে অন্যের সাথে ভাব বিনিময় করতে পারছি এবং স্মৃতিচারণ করতে পারছি। এ বিদ্যালয়কে আমরা ভালোবাসি বলেই আমরা এ অনুুষ্ঠানে এসেছি।
তিনি বলেন, এ বিদ্যালয়ের অনেক ঐতিহ্য রয়েছে, সাবেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ বিদ্যালয়ের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। যাদের ত্যাগের বিনিময়েই বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বর্তমান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে তাদের দেখানো পথ অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে, তবেই এ বিদ্যালয় সুনাম ও ঐতিহ্য রক্ষা পাবে।
তিনি বলেন, এ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখতে বিভিন্ন বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থাসহ স্মরণীয় ব্যক্তিদের স্মরণ রাখতে হবে। এ এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কালু শেখকে স্মরণীয় করে রাখতে তাঁর নামে বৃত্তি প্রদানের জন্য আমি ২ লাখ টাকা প্রদান করবো এবং বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের জন্য ১০ লাখ টাকা প্রদান করবো। এই টাকা এফডিআর করে বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে বৃত্তি হিসেবে প্রদান করা হবে।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী ডা. মো. হাবিবুর রহমান, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) রফিক উল্যা, সাবেক সচিব মুক্তিযোদ্ধা মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শহীদ পাটোয়ারী।
আলোচনা সভার পর বিদ্যালয় ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিচালনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।