স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর পৌর এলাকার বাবুরহাট শিলন্দিয়া কালাম শেখের ভাড়াটিয়া বাসায় ঝুমুর আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২ নভেম্বার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(২)/৩০ ধারায় নিহতের বাবা মো. সিদ্দিক গাজী ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২৭৮/২০।
মামলার আসামিরা হলো- বাবুরহাট শিলন্দিয়া এলাকার দেলোয়ার হোসেন শান্ত শেখ (২৫), তার বাবা মন্টু শেখ (৫৫), মা নাজমা বেগম (৪৫) ও নিহত ঝুমুরের সৎ বাবা আনোয়ার বেপারী (৩২)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহত ঝুমুরের মা শাহীনা বেগমের সাথে ২০০৯ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদ হওয়ার কিছুদিন পরে শাহীনা বেগমের আনোয়ার বেপারীর সাথে বিয়ে করে ফেলে। বিচ্ছেদের পরে তাদের ২ মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে থাকতো মায়ের সাথে এবং ছোট মেয়ে ঝুমুর আক্তার তার বাবা মো. সিদ্দিক গাজীর সাথে থেকে পড়াশোনা করতো। ২০১২ সাথে ঝুমুর যখন ৩য় শ্রেণি থেকে ৪র্থ শ্রেণিতে উঠে তখন শাহীনা বেগম ঝুমুরকে তার কাছে নিয়ে যায়। তার মা ও সৎ বাবা ঝুমুরকে পড়ালেখা না করিয়ে ঢাকাতে বিভিন্ন বাসায় কাজে দিয়ে দেয়। কয়েক মাস আগে ঝুমুর ঢাকা থেকে এসে বাবুরহাট শিলন্দিয়া কালাম শেখের ভাড়াটিয়া বাসায় তার মা ও সৎ বাবার কাছে এসে বসবাস শুরু করে। এদিকে পাশের বাড়ির মন্টু শেখের ছেলে শান্ত শেখ ঝুমুরের প্রতি কুদৃষ্টি পড়ে। শান্ত শেখ সৎ বাবা আনোয়ার বেপারীকে অর্থের বিনিময় দেখিয়ে ঝুমুরকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করতে থাকে। ২৭ অক্টোবর ঝুমুরের মা শাহীনা বেগম তার অসুস্থ ভাইকে দেখেতে ঢাকাতে যায়। এই সুযোগে ২৮ অক্টোবর রাতে শান্ত শেখ সৎ বাবা আনোয়ার বেপারীকে হাত করে তাকে মাছ শিকারের নামে বাড়ির বাইরে পাঠিয়ে দেয়। পরে শান্ত শেখ ঝুমুরের ঘরে প্রবেশ করে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ভয়ভতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি যেন জানাজানি না হয় সেজন্য শান্ত শেখ ঝুমুরকে শ^াসরুদ্ধ করে হত্যা করে। পরে নিহত ঝুমুরের গায়ের ওড়না দিয়ে বাসার আড়ার সাথে ঝুলিয়ে দেয়, যাতে দেখে মনে হয় আত্মহত্যা। পরদিন ২৯ অক্টোবর সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে শান্ত শেখের বাবা মন্টু শেখ ও মা নাজমা বেগম মোটা অংকের টাকা লেনদেন করে ঝুমুরের সৎ বাবা আনোয়ার বেপারী, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তি, পুলিশ ও ডাক্তারকে ম্যানেজ করে আত্মহত্যা বলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ নিহতের লাশ থানায় নিয়ে আসে। থানা থেকে লাশ রাত ৯টায় গোপনে নিহতের নানার বাড়িতে দাফন করে। পরে লোকমুখে নিহত ঝুমুরের বাবা মো. ছিদ্দিক গাজী তার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা জানতে পারে। ৩০ অক্টোবর ছিদ্দিক গাজী থানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারে এ বিষয়ে কোন মামলা হয়নি। চাঁদপুর মডেল থানার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাও এ বিষয়ে কিছু জানেন না। অথচ ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ থানায় এনে সারাদিন ফেলে রাখে। নিহতের বাবার ছিদ্দিক গাজী থানায় মামলা করতে গেলে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। চাঁদপুর মডেল থানার কোন সহযোগিতা না পেয়ে ছিদ্দিক গাজী আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে এসআই শামীম জানান, গত ২৯ অক্টোবর সকালে আমার কাছে খবর আসে বাবুরহাটে একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ ফাঁসি থেকে নামিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে পোস্টমর্টেমের জন্যে থানায় নিয়ে আসি। পরে পোস্টমর্টেমের পরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত হত্যা না আত্মহত্যা কিছু বলা যাবে না।
তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, ঝুমুরের হত্যাকারীরা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই তাকে দাফন করেছে। বড় অংকের টাকা লেনদেন করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও চিকিৎসকদের ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বেশ ক’জন দালাল।
৫ নভেম্বর, ২০২০।
- Home
- চাঁদপুর
- চাঁদপুর সদর
- বাবুরহাটের ঝুমুরের মৃত্যুতে আদালতে মামলা
