হতাশ জেলে আর আড়ৎ মালিকরা
ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুরের মেঘনাসহ পদ্মা নদীতে চলতি ভরা মৌসুমে দেখা মিলছে না কাক্সিক্ষত ইলিশ মাছের। সবেমাত্র দুই মাসের অভয়াশ্রম শেষে জেলেরা দল বেঁধে নদীতে জাল ফেললেও দিন শেষে তারা হাতাশ হয়ে তীরে ভীড়ছে। হঠাৎ নদীতে ইলিশ উধাও হয়ে যাওয়ায় জেলেদের সাথে বিপাকে পড়েছে চাঁদপুর মাছ ঘাটের আড়ৎ মালিকরাও। তাজা ইলিশের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান হতে চাঁদপুরে আসতো ব্যবসায়ীসহ সাধারণ ক্রেতারা। চাহিদার বিপরীতে ইলিশের আমদানি না থাকায় কেউই ইলিশের স্বাধ গ্রহণ করতে পারছে না।
এদিকে গতকাল রোববার দুপুরে চাঁদপুর ইলিশ ঘাটে (বড় স্টেশন মাছ ঘাট) সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নদীর ইলিশের আমদানি না থাকলেও সাগরের ইলিশ নিয়ে আড়তে ফিরছে জেলেরা। এতে করে ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস নিতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা তাদের দাদনের লগ্নিকৃত টাকা ফেরতের আসায় সাগরের স্বল্প পরিমাণ ইলিশ নিয়েই তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাচ্ছে।
এ কারণেই বড় স্টেশন মাছ ঘাটে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও জেলেদের মাঝে কিছুটা ছিল কর্ম ব্যস্ততা। তবে সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় ইলিশের আমদানি কিছুটা বাড়ায় খুশি সবাই। সাগরের ইলিশের আমদানিতে সাধারণ ক্রেতা তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না বিকিকিনিতে। তবে ঘাটে পাইকারদের হাকডাকে অনেকটাই গরম ছিল মাছ ঘাট এলাকাটি।
মাছ ঘাটের হাজী আবদুল খালেক মাল ফিস এজেন্টের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. রুবেল হোসেন বলেন, ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। এই নিষিদ্ধ সময়ের আগে সাগর হতে আহরণকৃত ইলিশগুলো ঘাটে আসতে শুরু করেছে। এ ইলিশগুলোর পরে আর কোন ইলিশ ঘাটে আসবে কিনা তা বলা সম্ভব নয়।
রুবেলের মতে এই ইলিশগুলো এখন (৭শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম) প্রতি মণ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। ঘাটে যা ইলিশ আসছে, সবই সাগরের ইলিশ। পদ্মা-মেঘনায় তেমন ইলিশ নেই বললেই চলে। সাগরের এই ইলিশে আমরা ব্যবসায়ীরা মেটেও খুশি নই। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার ইলিশ পেলেই সবাই খুশি হয়।
জেলে রফিক মিজি জানান, আমরা নদীতে মাছ না পেয়ে সাগরে এলাকায় ইলিশ ধরি। যদিও সাগরে এখন মাছ শিকার নিষিদ্ধ রয়েছে। আগে যেগুলো ধরেছি, সেগুলো বরফে সংরক্ষণ করে এখন সব একত্র করে মাছ ঘাটে আনা হচ্ছে। এখানে চাহিদা বেশি থাকায় সব ইলিশ এ ঘাটে নিয়ে আসা হয়েছে।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি রোটারিয়ান মানিক জমাদার বলেন, পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের দেখা মিলছে না। লোকাল আর সাগরের কিছু ইলিশ বিক্রি হয় প্রতিদিন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানের চাষকৃত মাছ এখানে আসে, সেগুলো ডাকের মাধ্যমে বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা তাদের লগ্নিকৃত বিনিয়োগের বিপরীতে ব্যবসা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। ঘাটে যেসব ইলিশ এসেছে সেগুলো জেলেদের আগে ধরেছে, তা আবার সাগরের।
২৪ মে, ২০২১।
