কুকুরকে ২৪ ঘণ্টা বেঁধে রাখলে জেল-জরিমানা

অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ করা যাবে না

ইলেশপাড় ডেস্ক
কুকুরকে চলাফেরার সুযোগ না দিয়ে একটানা ২৪ ঘণ্টা বা এর বেশি সময় বেঁধে বা আটকে রাখলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। ২০১৮ সালে ‘প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৮’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ১৯২০ সালের পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা নিরোধ আইন আছে। সেই আইনের ভিত্তিতে নতুন আইনটি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রত্যেক প্রাণির মালিক বা তত্ত্বাবধানকারীর দায়িত্ব হবে যৌক্তিক কারণ ছাড়া ওই প্রাণির প্রতি কল্যাণকর ও মানবিক আচরণ করা এবং নিষ্ঠুর আচরণ করা হতে বিরত থাকা। এটা এই আইনের জেনারেল ইন্সট্রাকশন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রাণি জবাইকালে এবং ধর্মীয় উদ্দেশে উৎসর্গকালে যেকোনো ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি কর্তৃক নিজস্ব ধর্মীয় আচার অনুযায়ী কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে তাকে নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য করা হবে না। কিন্তু কুকুরকে শরীরচর্চার জন্য কোনো প্রকার চলাফেরার সুযোগ না দিয়ে একটানা ২৪ ঘণ্টা বা এর বেশি সময় বেঁধে বা আটকে রাখলে নিষ্ঠুরতা বলে গণ্য হবে। খসড়া আইনে এই জাতীয় কিছু বিষয় আছে- বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি বলেন, যুক্তিযুক্ত প্রয়োজনে ভেটেরিয়ান সার্জনের লিখিত পরামর্শ ও পদ্ধতি অনুসারে প্রাণিকে অজ্ঞান করার ক্ষেত্রে বা এর ব্যথাহীন মৃত্যু ঘটানো হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই আইনের অধীনে অপরাধ করলে বা অপরাধে সহায়তা করলে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। আগে এজন্য শাস্তি ছিল ৩ মাসের জেল বা এক হাজার টাকা জরিমানা।
এছাড়া, জীবজন্তুর প্রতি যে কোনো রকমের নিষ্ঠুর আচরণ এবং নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা জন্তু বিক্রি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে আইনটির ৪ ধারায়। নিষ্ঠুরতার বেশকিছু উপায়কে এখানে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেমন: কোনো জন্তুকে অতিরিক্ত পরিমাণ হাঁটানো, নিদর্য় ও অপ্রয়োজনীয় মারধর কিংবা অন্য কোনোভাবে বাজে ব্যবহার করা নিষ্ঠুরতার অন্তভুর্ক্ত। আবার জীবজন্তুকে অপ্রয়োজনীয় কষ্ট ও দুভোর্গের মুখে ঠেলে দিয়ে বাঁধা, আটক রাখা কিংবা বহন করাও নিষ্ঠুরতা।
কোনো জন্তুকে অঙ্গহানি করে, অনাহারে-তৃষ্ণায় রেখে বিক্রি করা বা বিক্রির জন্য মজুদ রাখাও এই ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোনো ব্যক্তির অধীনে যদি কোনো মৃত জীবজন্তু পাওয়া যায় যার মৃত্যু ঘটেছে নিষ্ঠুরতার কারণে সে ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিকেও এই ধারার অধীনে শাস্তি পেতে হবে।

০৫ অক্টোবর, ২০২১।