পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদের সফলতার এক বছর

ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমদের সফলতার এক বছরে জেলার আভ্যন্তরীণ আইন-শৃংখলা উন্নয়ন ঘটেছে। তিনি গত বছরের ১৮ মার্চ চাঁদপুরে পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি গত এক বছরে এ জেলার অপরাধ দমন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক দ্রব্য উদ্ধার, সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও ডাকাত আটকসহ চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস মামলা রহস্য উদঘাটনে সাফল্য রাখছেন বলে জেলা পুলিশের সূত্র জানান।
পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদের যোগদানের এক বছর পূর্তিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দক্ষ নেতৃত্বের কারণে এ জেলায় বর্তমানে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি অতীতের তুলনায় স্বাভাবিক ও অপরাধ প্রবণতা কমে এসেছে।
‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’ এমন শ্লোগানকে সামনে রেখে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে জেলাকে শতভাগ মাদকমুক্ত করার প্রত্যয় কাজ শুরু করেন পুলিশ সুপার। ইতোমধ্যে তিনি এ জেলায় প্রায় ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২শ’ কেজি গাঁজা, ২ হাজার ৫শ’ ফেন্সিডিলসহ বেশকিছু বিদেশী মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেন।
বর্তমানে ৭শ’ ৯৭টি মাদক মামলায় ৮শ’ ৮৭ জন অপরাধীকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেন। এছাড়া ফরিদগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ অস্ত্র মামলায় ২ জনকে আটকসহ ২টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয় জেলা পুলিশ। গ্রেফতারী ও সাজা পরোয়ানা বাস্তবায়নে গত ১ বছরে ৪ হাজার ৬শ’ ৪০টি গ্রেফতারী ও ৪শ’ ৬২টি সাজা পরোয়ানা তামিল করে আসামিদের আইনের আওতায় আনা হয়।
জেলা পুলিশ বলছে, ইতোমধ্যে ক্লুলেস চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন থানায় ৭টি খুন ও ৩টি ডাকাতি মামলার রহস্য উম্মোচিত করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি শেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করায় নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলকভাবে শেষ হয়। এতে ভোটাররা উৎসবমুখর নির্বাচনে অংশ নেয়।
ইতোমধ্যে পুলিশ সুপার জেলা পুলিশের নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে, ২টি ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ প্রদান করেন। স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে টিআরসি নিয়োগে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকায় এতিম, রিক্সাচালক, অসহায় পরিবারের মেধাবী তরুণদের যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি প্রদান করা হয়।
এছাড়া করোনাকালীন সময়ে মানুষের জীবন যাত্রা যখন স্থবির হয়ে পড়ে ঠিক তখনি কর্মহীন জেলার প্রায় ৬ হাজার পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করে জেলা পুলিশ। এছাড়া জেলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয় পুলিশ বাহিনী।
পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ দায়িত্ব গ্রহণের পর নাগরিক সেবা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে, প্রবাসী কল্যাণ হেল্প ডেস্ক স্থাপন। সেবা প্রদানের জন্য একজন অফিসার পদায়ন করা হয়। ২৪ ঘণ্টা বিরতিহীন সেবা প্রদানের জন্য ডেস্কের জন্য হটলাইন ০১৩২০-১১৫৯৭০ চালু করা হয়।
ওয়ানস্টপ পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য বিদেশগামী যাত্রীদের দ্রুত সেবা প্রদান করতে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নিচতলায় ডেস্ক চালু করা হয়েছে। সেবা গ্রহিতাদের হয়রানি লাঘবের জন্য বিনামূল্যে অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আবেদন ফরম পূরণ, তদন্ত কার্যক্রমের ৩ দিনের মধ্যে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদান করা হয়।
এছাড়া নারী ও শিশু হেল্প ডেক্সটিকে গতিশীল করা হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর ট্রাফিক বিভাগসহ কয়েকটি ইউনিটে কর্মরত ৩৬ পুলিশ সদস্যেদের বডিওর্ন ক্যামেরা চালু করা হয়। যাতে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের কার্যক্রম নজরদারি করা সম্ভব হয়।
পুলিশ সুপার পুলিশের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য পুলিশ সদস্যদের বাধ্যতামূলক দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স চালু করার পাশাপাশি বার্ষিক মাস্কেট্রি, কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পুলিশ সদস্য প্রতিদিন এ্যাপসের মাধ্যমে হাজিরা প্রদান করতে হয়।
অপরদিকে কোর্ট পুলিশকে আধুনিকায়নের জন্য সদর কোর্টে প্রতেক ডেক্সে কম্পিউটার প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যতেদর জন্য বিভিন্ন খেলাধুলা ও পুলিশ লাইনস্ মেসের খাবারের মান উন্নত করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশ বিভাগ থেকে জানানো হয়।

২১ মার্চ, ২০২২।