চাঁদপুর লঞ্চঘাটে আটো-সিএনজির ভাড়া নিয়ে যাত্রীরা নাজেহাল

কর্তৃপক্ষের নীরবতায় চালকরা বেপরোয়া

ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুর লঞ্চঘাট হতে শহরের অভ্যন্তরে অটো-সিএনজির যাত্রী ভাড়া নিয়ে চলছে তুলকালাম। সংশ্লিষ্টদের তদারকি না থাকায় চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে পরছে যাত্রীরা। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করে আসছে। এতে করে সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে রাতের বেলা চাঁদপুর শহরের যাত্রীরা পড়েন চরম বিড়ম্বনায়। কাছাকাছি দূরত্ব হওয়ায় সিএনজি কিংবা অটোচালকরা তাদের সাথেই কথাই বলতে চান না। এছাড়া লঞ্চ থেকে যাত্রীরা ঘাটে নামার আগেই অটো-সিএনজির চালকদের চিৎকারে সেখানে অবস্থান করাও কষ্টকর। এমন বিড়ম্বনার শেষ হবে কবে, তা বলতে পারছে না কেউ।
যাত্রীরা বলছে, চাঁদপুর লঞ্চঘাটে কোন লঞ্চ ভিড়লেই শুরু হয় চালকদের দৌরাত্ম্য। কার আগে কে যাত্রী তুলবে তার প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে এমন প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকে সিএনজি চালকরা। তারা দূরপাল্লার কিংবা বিভিন্ন উপজেলার যাত্রীদের নিয়ে টানাহেচড়া করতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেক যাত্রী নাজেহালের শিকার হন চালেকদের হাতে।
যাত্রীদের অভিযোগ কোন শৃঙ্খলা না থাকায় এমন ঘটনা হরহামেশায় ঘটে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। যাত্রীদের অনেকটা জিম্মি করে তারা দ্বিগুণ কিংবা তারও বেশি ভাড়া আদায় করে আসছে। যাত্রীরা এমন সময় চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে পরতে হয় বলে তারা অভিযোগ করেন। যাত্রীরা আরো অভিযোগ করেন লঞ্চঘাট হতে শহরের অভ্যন্তরে পরিবারের সদস্য কিংবা মালামাল নিয়ে আসতে চাইলে কোন চালকই আসতে চায় না।
আবার যদি কোন চালক আসতে চায় তা আবার ২০ টাকা ভাড়া হয়ে যায় দুই থেকে তিন শ’ টাকা। আবার রাত যত বেশি হয় ভাড়াও ততো বাড়তে থাকে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন। শহরের কোড়ালিয়া, মমিনপাড়া, প্রফেসর পাড়া, নতুন বাজার, পালপাড়া, গুণরাজদীসহ অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতেই অটো চালকরা এমন ভাড়া আদায় করে আসছে।
যাত্রীরা আরো অভিযোগ করেন, কেবল লঞ্চঘাটে আসা চালকরাই ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে একাট্টা হয়ে যায়। তাদের সবার একযোগে এমন আচরণের জন্য বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই যাত্রীদের গন্তব্যে যেতে হয়।
এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ভুক্তভোগী যাত্রীরা দাবি করছেন, সংশ্লিষ্টরা যেন এমন বিষয়গুলো তদারকি করে লঞ্চঘাট হতে শহরের অভ্যন্তরীণ ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়ে তার টার্মিনালের সম্মুখে টানিয়ে দেয় এবং যেসব চালক ঐ চার্ট মানতে নারাজ তাদের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতিও পাল্টে যাবে মনে করেন যাত্রীরা।
এছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে লঞ্চঘাটে যাত্রী ছাউনি স্থাপন করা হলেও চালকদের হয়রানি অনেকাংশে কমে আসবে। যাত্রী ছাউনি না থাকায় ঘাট এলাকায় যাত্রীরা দাঁড়িয়ে থাকতে না পাড়ায় চালকরাও বেপরোয়া আচরণ করেন প্রতিনিয়ত।

১৩ এপ্রিল, ২০২২।