মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
৩ দফার প্রত্যাশিত দাবি পূরণ না হওয়ায় কেন্দ্রিয় কর্মসূচির পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী চাঁদপুরের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করছেন। আজ বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনের মতো তাদের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চলছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই কর্মসূচি চলবে বলে জানান নেতৃবৃন্দ।
গত ২৬ মে থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেন সহকারী শিক্ষকরা। এর আগে ৩ দফা দাবিতে গত ৫-১৫ মে পর্যন্ত দিনে ১ ঘণ্টা, ১৬-২০ মে পর্যন্ত ২ ঘণ্টা এবং ২১-২৫ মে পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন তারা। কিন্তু ২১ দিনের খন্ডকালীন কর্মবিরতিতে দাবি পূরণ না হওয়ায় পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষকরা।
সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ এর ব্যানারে দেশের ছয়টি শিক্ষক সংগঠনের সমন্বয়ে এই কর্মসূচি পালিত করছেন শিক্ষকরা। দাবিগুলো হচ্ছে, সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১১ তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান এবং প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতির নিশ্চয়তা।
এদিকে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেড এক ধাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সহকারী শিক্ষকদের শুরুর বেতন গ্রেড ১২তম এবং প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড হবে। তাই, সরকারের এ উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে সহকারী শিক্ষকেরা আন্দোলনে নামেন।
জানা গেছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার থেকে সারাদেশে একযোগে অর্ধদিবস কর্মবিরতি শুরু করেন, সহকারী শিক্ষকরা। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তারা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত না থেকে পাঠদান ও পরীক্ষাসহ যাবতীয় শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত ছিলেন।
অর্ধদিবস কর্মবিরতি গত ২৫ মে শেষ হয়েছে। এর আগে ১ ঘণ্টা করে ১১ দিন ও ২ ঘণ্টা করে ৫ দিন এবং অর্ধদিবসের কর্মবিরতি ৫ দিনসহ তিন দফায় ২১ দিন কর্মবিরতি পালিত হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত দাবি পূরণ না হওয়ায় পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষকরা।
এদিকে কেন্দ্রিয় কর্মসূচীর সাথে একাত্মতা পোষণ করে সারাদেশের মতো চাঁদপুরের ১ হাজার ১৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতী পালন করে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে কোমলমতি শিশু সন্তানের পড়ালেখা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। চলতি বছর এমনিতেই বই পেতে দেরি, তার উপর সাপ্তাহিক দুইদিন সরকারি ছুটি।
আবার রমজান, ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিসহ প্রায় দেড় মাস বিদ্যালয় বন্ধ ছিলো। এসএসসি পরীক্ষার কারণে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত ক্লাস, রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শিক্ষকদের আন্দোলন, ক’দিন পরে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হবে। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠদান বা পড়ালেখার দেখা পাচ্ছে না।
ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং শিখন ঘাটতি এবং ঠিকমতো ক্লাসে লেখাপড়া ছাড়াই অনেক শিক্ষার্থী ওপরের ক্লাসে উঠছে। যা তার কর্মক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ছে। অথচ প্রাথমিক শিক্ষা একটি শিশুর ভবিষ্যৎ তৈরি করে এবং নিশ্চিত করে একটি জাতির ভবিষ্যৎ। তাই, শিক্ষকদের দাবিগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন অভিভাবকরা।
সংগঠনটির কেন্দ্রিয় নেতারা জানান, সহকারী শিক্ষক পদটি একটি এন্ট্রি লেভেল পজিশন হওয়ায় এটিকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা সময়ের দাবি। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে যুগোপযোগী কনসালটেশন কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তারা।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি এবং প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ সংবাদমাধ্যকে জানান, সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হলেও দাবি কার্যকরে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই, সারাদেশে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকরা।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সহকারী শিক্ষকদের ১২ তম গ্রেডের প্রস্তাবনা মেনে নিতে পারছি না। আমরা চাই ন্যূনতম ১১ তম গ্রেডে সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে বেতন নির্ধারণ এবং প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি। পাশাপাশি উন্নীত স্কেল ও উচ্চতর গ্রেডের সমস্যা সমাধান করে ১০ বছর ও ১৬ পূর্তিতে সহকারী শিক্ষকদের ১ম ও ২য় উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা যেন নেয় মন্ত্রণালয়।
২৯ মে, ২০২৫।
