উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হাদী চেয়ারম্যানের বিকল্প নেই

সরেজমিন পরিদর্শনে হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও (উ.) ইউনিয়ন

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১নং রাজারগাঁও (উ.) ইউনিয়ন অন্যতম। এই ইউনিয়নে উন্নয়নের ধারা অব্যাহৃত রাখতে আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়ার (হাদী চেয়ারম্যান) কোন বিকল্প নেই বলে মনে করছেন ওই ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তিনি দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার মেয়াদকালীন সময়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ছিলো চোখে পড়ার মতো।
এই দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়া ৫ বার (৫ অর্থ বছর) জেলার শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। যার ফলে তিনি সরকারিভাবে ২ বার বিদেশ সফর করেছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণেও অংশ নিয়েছেন। ইউনিয়নের উন্নয়ন, শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া এবং বিদেশ সফর করায় ইউনিয়নবাসী তার প্রতি সন্তুষ্ট।
বর্তমানে রাজারগাঁও (উঃ) ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। এক সময় ইউনিয়নের লোকজন কৃষি নির্ভর ছিলো। কিন্তু বর্তমানে ও সময়ের প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারী চাকুরিজীবীসহ ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোকজন প্রবাসে কর্মরত। তারা সবাই সৎ, যোগ্য এবং ইউনিয়নের উন্নয়নের কারিঘর হিসেবে আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়াকে আবারো চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়।
জানা গেছে, ২০১১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর ২০১৬ সালে তিনি আবারো নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন। তার এই দীর্ঘ ১০ বছরের নেতৃত্বে ইউনিয়নে শতভাগ বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধীসহ অন্যান্য ভাতা ও শতভাগ বিদ্যুতায়ন এলাকা হিসেবে চিহিৃত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার দেশের প্রতিটি সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছে এবং বিভিন্ন মেঘা প্রকল্পের বাস্তবায়নসহ দেশের এই উন্নয়ন কাজ চলমান। এই উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে নেই, হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও ইউনিয়ন। সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের নেতৃত্বে আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়া জনগণকে সাথে নিয়ে ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করছেন।
তিনি ওই ইউনিয়নের গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে কাঁচা (মাটি) রাস্তা নির্মাণ, ছোট-বড় কাঁচা রাস্তায় সিসি, আরসিসি ঢালাই দ্বারা পাকাকরণ, ইটের সোলিং, কালভার্ট, গাইড ওয়াল, আর্সেনিকমুক্ত নলকূপ, মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা, মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল ও কলেজ হাট-বাজারের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।
এ ছাড়াও করোনাকালীন এই সময়ে সরকারি সহায়তা প্রদানসহ আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়া তার সরকারি ও তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে, মাস্ক বিতরণ, হাত ধৌয়ার জন্য হ্যান্ড সেনেটারী এবং সচেতনামূলক কর্মকান্ড পরিচালনাসহ নিজস্ব অর্থায়নে কর্মহীন মানুষের মাঝে নগদ টাকা ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। যাহা অতিতে কোন চেয়ারম্যানদের এসব কর্মকান্ড করতে দেখা যায়নি। সবাইকে তিনি এক চোখে দেখেন বলে ইউনিয়নে মানুষেরা জানান।
সরজমিন পরিদর্শন করে জানা গেছে, আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়ার তার মেয়াদকালীন সময়ে ইউনিয়নে প্রায় ২৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ হয়েছে। নতুন করে ১০টি মাটির রাস্তা ও ছোট-বড় ২১টি ব্রীজ-কালর্ভাট নির্মাণ করা হয়েছে। রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, রাজারগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন দ্বিতল ভবন, রাজারগাঁও হাইস্কুলে ৪ তলা ও ৩ তলা বিশিষ্ট দুইটি নতুন ভবন নির্মিত হয়েছে।
এছাড়া রাজারগাঁও ফাজিল মাদরাসায় ৪ তলা, মেনাপুর পীর বাদশা মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ তলা এবং মেনাপুর পীর বাদশা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ তলা ভীত বিশিষ্ট ১ তলা ভবন নির্মিত হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় ২ শতাধিক গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। রাজারগাঁও বাজার প্রশস্তকরণ ও আরসিসি ঢালাই দ্বারা পাকাকরণ করা হয়েছে।
ইউনিয়নের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে (মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও মন্দির) সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে অনুদান দিয়েছেন আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়া। এছাড়াও বিয়ে, পড়ালেখার খরচসহ বিভিন্ন উৎসব ও কর্মসূচীতে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহযোগিতা করছেন নিত্য। এক কথায় তিনি ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুখে সবসময় পাশে ছিলেন এবং রয়েছেন। আগামি দিনেও তাদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দল (আওয়ামী লীগ) আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে এবং জনগণ আমার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। আমি দল এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে সর্বোচ্ছ চেষ্টা করেছি এবং এখন পর্যন্ত করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমাদের এমপি মহোদয়ের সার্বিক সহযোগিতায় আমি ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। যেসব উন্নয়ন এখন সবার চোখে দৃশ্যমান। আমার এই দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আমি সবসময় ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও যে কয়েক দিন বেঁচে থাকি, ততদিন যেন জনগনের পাশে থেকে ইউনিয়নের উন্নয়ন মূলক কাজ করতে পারি। এটিই আমার আশা ও প্রত্যাশা।
আগামী ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং জনগণের ভোটে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে, বাকি উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত এবং ইউনিয়নকে উপজেলার একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়া। এ দিকে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও এলাকা সরজমিন পরিদর্শন করে এবং জনগণের সাথে কথা হলে, তারাও আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়াকে আবারো চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান বলে মতামত ব্যক্ত করেন।
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২১।