সাহেদ হোসেন দিপু
হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়ন আমতলী বাজার থেকে খালপাড় হয়ে নদীকূল পর্যন্ত ২শ’ বছরের পুরনো রাস্তাটির বেহাল দশায় পরিণত হয়ে এখন বিলুপ্তির পথে। প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা শিক্ষার্থীসহ ২ সহস্রাধিক পথচারীর চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় এ রাস্তায়। বছরের পর বছর প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও অদৃশ্য ছায়ায় সংস্কারের আলো দেখে না জনবহুল এই রাস্তাটি। পুরনো এ রাস্তাটি খুব শীঘ্রই সংস্কার না করা গেলে চরভৈরবী ইউনিয়ন ভূমি অফিস, কলেজ, ২টি আলিয়া মাদ্রাসা, মাধ্যমিক স্কুল, ২০/২৫টি প্রাইমারি স্কুল ও ২টি বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ অফিস অকার্যকর হয়ে পড়বে।
জানা যায়, ইউনিয়নের অন্যান্য জায়গায় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বরাদ্দে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। যার তুলনায় এ রাস্তাটি সংস্কার হওয়া বেশি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু নতুন নতুন প্রস্তাবনা অনুমোদন হয়ে কাজ শেষ হয়েছে অনেক প্রজেক্টের। এ প্রজেক্ট বার-বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর পরও অনুমোদন না হয়ে হতাশার বাণী নিয়ে পুনরায় ফিরে আসে।
স্থানীয় ডাকু বেপারী জানান, চরভৈরবী আমতলী থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত খাল পাড় সংলগ্ন ২শ’ বছরের পুরনো এ রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় এখন বিলুপ্তির পথে। যেটুকু রাস্তা আছে তাতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজার-হাজার পথচারীরা চলাচলে ছোট-বড় দুর্ঘটনায় ঘটছে।
তিনি বলেন, চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড উ-২অ খালের উপর নির্মিত ২ ভেল্ট (ভেন্ট সাইজ .৫০মিঃ ১.৮০মিঃ) প্রজেক্ট তৈরি করে একাধিকবার প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে রাস্তাটি সংস্কারের অনুমোদন দেয়া হয় না। যার ফলে রাস্তাটি এখন বিলুপ্তির পথে। জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটির প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা চরভৈরবীবাসীর প্রাণের দাবি।
জেলা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক দেওয়ান জানান, আমতলী নদীর পাড় হতে আমতলী বাজার হয়ে একটি খাল পূর্বদিকে গেছে। আমতলী বাজারের পূর্বপাশে স্লুইস গেট দিয়ে পূর্বাঞ্চলের পানি নিয়মিত মেঘনা নদীতে প্রবাহিত হয়। পানির স্রোতে খালের পাশের রাস্তাটি খালের মধ্যে ধসে পড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রজেক্ট তৈরি করে প্রতি বছরই প্রস্তাবনা দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যার কুফল এলাকাবাসীসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং পথচারীরা ভোগ করছে।
চরভৈরবী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুল ইসলাম বাবুল জানান, বিগত ১০ বছর ধরে এ রাস্তাটি বেহাল দশায় পরিণত হচ্ছে। চরভৈরবীবাসীর জনদুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি মেরামত করা জরুরি।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ রাস্তা দিয়ে আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। শিক্ষার্থীরা অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হন।
চরভৈরবী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আহমদ আলী মাস্টার জানান, চরভৈরবী আমতলী হতে নদীকূল পর্যন্ত এ জনবহুল রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় স্লুইস গেটের পানি প্রবাহিত হয়ে মানুষের বসতবাড়ি, রাস্তা, দোকান ও ভিটেমাটি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তিন বছর আগে ৩ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ হলেও অদৃশ্য কারণে এ রাস্তা ও খালটির কাজ করা হয়নি। জনদুর্ভোগ লাঘবে অতিসত্বর এ রাস্তার প্রজেক্ট অনুমোদনসহ বাস্তবায়ন করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহিম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থ শাখায় অর্থ ছাড় দিলেই প্রকল্পটির কাজ করা হবে।
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২।
