যুবলীগ নেতা ফারুক ভূঁইয়ার নেতৃত্ব
স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুক ভূঁইয়ার নেতৃত্ব চাঁদপুর মহাশ্মশানের জায়গা দখলের
পাঁয়তারা চলছে। এ ব্যাপারে চাঁদপুর মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে পৌরসভার মেয়র ও চাঁদপুর মডেল থানায় লিখিতভাবে সাধারণ ডায়রি করেছে। সেই ডায়রির প্রেক্ষিতে মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করে এই কাজ বন্ধ করে দেন।
চাঁদপুর মহাশ্মশানের সবদাহ সংগঠন হরিবোলা সমিতির সভাপতি অজয় কুমার ভৌমিক জানান, আজ থেকে বহু বছর আগে সাধুচরণ পোদ্দার সবদাহের জন্য ৪ একর সম্পত্তি শশ্মানকে দান করেন। সেই থেকে এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী মৃত ব্যক্তিদের দাহ কার্য করা হচ্ছে। এক সময় চাঁদপুর পৌরসভা থেকে শ্মশানের বাইরের অংশ ব্যক্তি মালিকানায় লিজ দেয়া হয়। আমরা শ্মশান কর্তৃপক্ষ চাঁদপুর পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান মরহুম সফিকুর রহমান ভূঁইয়ার কাছে লিজ প্রথা বাতিলের আবেদন করলে তা বাতিল করা হয়।
তিনি আরো জানান, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল লিজ নবায়ন করেছে দাবি করে শ্মশানের জায়গায় পাকা স্থাপনা তৈরি করছে। গত ৩০ জানুয়ারি ওই প্রভাবশালী মহল পাকা স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করলে আমরা শ্মশান কর্তৃপক্ষ জানতে পেরে বিকেলে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এ সময় সাবেক ফারুক ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি আর কোন কাজ করা হবে না বলে আমাদের জানিয়ে দেন।
কিন্তু গত সোমবার ভোররাত থেকে ওই প্রভাবশালী মহল আবারো কাজ শুরু করে। এ খরব শুনে হরিবোলা সমিতির সভাপতি অজয় কুমার ভৌমিক দ্রুত লিখিতভাবে চাঁদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। পাশাপাশি কাজ বন্ধ করার জন্য চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম উদ্দিন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। থানার ওসি নাসিম উদ্দিনের নির্দেশমতে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করে এই কাজ বন্ধ করে দেন।
চাঁদপুর শহরের হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি হলো তাদের শেষ ঠিকানা এই মহাশ্মশান। এই শশ্মানের জায়গা চেয়ারম্যান সফিকুর রহমান ভূঁইয়ার আমলে লিজ প্রথা বাতিল করে দেয়া হলে এখন কিভাবে এই চক্রটি লিজ নবায়ন করেছে। সে দাবিতে সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ করছে। এতে করে চাঁদপুর মহাশ্মশানের জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে। দখলদারদের কবল থেকে শশ্মানের জায়গা বাঁচানোর জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।
