উত্তর তরপুরচন্ডী কাজিপাড়া সপ্রাবি লাগোয়া
স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর তরপুরচন্ডী কাজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লাগোয়া জরাজীর্ণ পাবলিক টয়লেটের কারণে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে টয়লেটির দুর্গন্ধ চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ে অবস্থান করা সম্ভব হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এমন পরিস্থিতিতে টয়লেটটি অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও দাবি করছে, টয়লেটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে এর পাশ দিয়ে সাধারণ মানুষসহ শিক্ষার্থীদের চলাচল করতে হলে নাক চেপে যেতে হয়। আর সামান্য বাতাসের গতি বাড়লে দুর্গন্ধে ছাড়পাশের পরিবেশ অসহনীয় হয়ে উঠে। এমন পরিস্থিতেতে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছে, অনেক আগে একটি দাতব্য সংস্থা স্থানীয় মানুষের উপকারে এই টয়লেটটি নির্মাণ করে। বর্তমানে তা ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়ছে। বিকল্প না থাকায় কেউ কেউ টয়লেটটি এখনো ব্যবহার করছে। যার কারণে সমস্যা দিন-দিন বাড়ছে। পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য স্থানীয়রা দাবি করছে স্কুল লাগোয়া এই পরিত্যক্ত টয়লেটটি দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন। এজন্য তারা প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছে।
পুরোনো আর খোলামেলা টয়লেটের কারণে যেমন একদিকে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সমস্যা হচ্ছে অন্যদিকে টয়লেটের দুর্গন্ধের কারণে আশেপাশের মানুষের ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
টয়লেটটি অপসারণের জন্য উত্তর তরপুরচন্ডী কাজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে অবগত করা হলেও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বিকল্প হিসেবে একাধিকবার সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস ও ট্রান্সফারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সভায় জানানো হয়েছে। তারপরও কোন সমাধান বা অপসারণের জন্য আলোর মুখ দেখিনি। ফলে দিন-দিনই টয়লেটটির কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ বিষয়ে উত্তর তরপুরচন্ডী কাজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোদেজা বেগম ইল্শেপাড়কে জানান, বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন নতুন ভবনটিতে ক্লাশ শুরুর আগেই জরাজীর্ণ এই পাবলিক টয়লেটটি অপসারণ প্রয়োজন। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাকে এ বিষয়টি নিয়ে ট্রান্সফারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি’র সভায় একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ফলে তিনি ইতোমধ্যেই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এ বিষয়ে আবেদন করেছেন।
