জুয়েল মেয়র নির্বাচিত

ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুর পৌরসভার নতুন মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাড. মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল। তিনি ৩৪ হাজার ৮শ’ ২৫ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। চাঁদপুর পৌরসভার দ্বিতীয় মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল।
তার নিকটতম বিএনপি’র প্রার্থী আক্তার হোসেন মাঝি ভোট পেয়েছেন ৩ হাজার ৬শ’ ১৩ ভোট। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ মামুনুর রশীদ বেলাল ১ হাজার ২শ’ ৩৩ ভোট পেয়েছেন। পৌর নির্বাচনে মোট ভোটার ১ লাখ ১৬ হাজার ৪শ’ ৮৭জন। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭শ’ ৮ ভোট কাস্ট হয়েছে। ৩৭ ভোট বাতিল হলে মোট বৈধ ভোটগ্রহণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৬শ’ ৭১ ভোট। ভোট কাস্ট হয়েছে ৩৪.০৯ শতাংশ।
চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল সকাল সাড়ে ৯টায় ১০নং ওয়ার্ডের ডিএন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন। বেলা ১১টায় বিএনপি’র প্রার্থী আক্তার হোসেন মাঝি ৯নং ওয়ার্ডের বিষ্ণুদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ মামুনুর রশীদ বেলাল ১০নং ওয়ার্ডের পৌর শহীদ জাবেদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট প্রদান করেন।
চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইভিএম এবং দলীয় প্রতীকে ভোট শুরু হয় সকাল ৯টায়। বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনার মধ্য দিয়ে ১৫টি ওয়ার্ডের ৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয় বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সামনে র‌্যাব, বিজেবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকায় পরিবেশ ছিল অনেকটাই শান্তিপূর্ণ। বিভিন্ন কেন্দ্রে পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে কেন্দ্রওয়ারী ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. তোফায়েল আহমেদ। কাউন্সিলর পদে ১৪টি ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। শুধু একটি ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে মাঠ পর্যায়ে ছিলো কয়েক পর্যায়ের নিরাপত্তা বলয়। আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলেন পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটেলিয়ান আনসারের সমন্বয়ে ৩টি মোবাইল ফোর্স ও ১টি স্ট্রাইকিং ফোর্স। র‌্যাবের ৬টি মোবাইল টিমের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ২ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন পুরো পৌর এলাকায়।
শনিবার সকাল ৯টায় চাঁদপুর পৌরসভার সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ শুরুর মাত্র ২ ঘণ্টা পর বিএনপির মেয়র প্রার্থী আক্তার হোসেন মাঝি বেলা ১১টার দিকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। বিকেল ৩টায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলহাজ মামুনুর রশিদ বেলাল। পরে ভোট বর্জনকৃত উভয় মেয়র প্রার্থীই সংবাদ সম্মেলন করে তাদের বক্তব্য তুলে ধারেন।
এদিকে প্রথমবারের মতো ইভিএম প্রযুক্তিতে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় সকাল থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। তবে ভোটগ্রহণের ১ ঘণ্টা পর থেকে প্রতিটি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন। তাদের এজেন্টদেরও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে তারা ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।
ভোট চলাকালীন সময় শহরের গনি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলায় ইয়াছিন (১৮) নামের এক যুবক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ঐ হামলায় আরো ১০জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টায় এই সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইয়াছিনের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কোপানো হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা রেফার করলে বাবুরহাট এলাকায় সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
দুপুরের দিকে ২ মেয়র প্রার্থীর ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। মেয়র প্রার্থী মামুনুর রশিদ বেলাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচন কমিশন চাঁদপুর পৌরসভাকে আবারো কলঙ্কিত করলো। কমিশনের নির্বাচন নিয়ে নতুন করে এমন তামাশার প্রয়োজন ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন ও দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি সুন্দর পরিবেশ ফিরে আসবে। কিন্তু তা আর হলো না। এই সরকারের লালিত-পালিত নির্বাচন কমিশন বিগত দিনেরই পুনরাবৃত্তি করলো।
এই প্রার্থীর আরো অভিযোগ করেন, আমার ভোটকেন্দ্রেই আমার স্ত্রী ও পুত্র ভোট দিতে পারে নাই। প্রতিটি কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ আনেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে। মূলত এই নির্বাচনটি ছিলো ডিজিটাল কারচুপির। যার কারণে তিনি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।
বিএনপি ও ধানের শীষের প্রার্থী আকতার হোসেন মাঝি সংবাদ সম্মেলনে জানান, সকাল থেকেই প্রতিটি কেন্দ্র হতে বিএনপি’র এজেন্টদের বের করে দেয়া হয় এবং সরকার দলীয় কর্মীরা প্রতিটি ভোট কেন্দ্র দখলে নিয়ে উপস্থিত ভোটরদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ইভিএম বাটন টিপে ভোট আদায় করেন।
এছাড়া বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মারধর ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ আনেন। আহত কয়েকজনকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান ও নেতাকর্মী এবং পৌরবাসীর জানমাল রক্ষায় নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন বলে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সফিকুর রহমান ভূঁইয়ার মৃত্যুতে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর করোনার কারণে কালক্ষেপণ হলেও গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয় চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় ১৫ বছর পর চাঁদপুর পৌরবাসী পেয়েছে তাদের নতুন অভিভাবককে।
ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চাঁদপুর পৌরসভায় ভোটগ্রহণে মেয়র পদে ৩ জন, কাউন্সিলর পদে ৫০ জন এবং মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
১১ অক্টোবর, ২০২০।