হাজীগঞ্জে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (৫ নভেম্বর) বিকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন (৩৩) উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ইউপি চেয়ারম্যান এদিন সকাল ১১টায় রামচন্দ্রপুর বাজারে জনসম্মুখে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন বলে জানান ওই শিক্ষক। তিনি ওই ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর ভূঁইয়া একাডেমির সহকারী শিক্ষক এবং নাটেহরা গ্রামের মৃত আলী আহম্মদের ছেলে। তিনি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
ফারুক হোসেন জানান, ২০১৯ সালের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি নির্বাচনে যুবদল নেতা বর্তমান ইউপি সদস্য জহির মোল্লার পক্ষে নির্বাচন করেন ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজী। অথচ তিনি নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অপরদিকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহানের নির্বাচনে প্রধান সমন্বয়ক পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তিনি বলেন, ওই নির্বাচনের পর থেকে ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজী আমার উপর ক্ষিপ্ত হন। সেই ঘটনার আলোকে শুক্রবার সকালে রামচন্দ্রপুর বাজারে চেয়ারম্যানের সাথে দেখা হয়। এসময় তিনি হঠাৎ করে আমার শার্টের কলার ধরে প্রকাশ্যে এবং জনসম্মুখে আমাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন এবং মেরে ফেলার হুমকি দেন।
এসময় আমাকে জড়িয়ে ধরে রেখে তাকে মারধরে সহযোগিতা করেন আওয়ামী লীগ নেতা এমরান হোসেন খন্দকার। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স নিয়ে আসেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি দেন। এই ঘটনায় তিনি আইনি সহযোগিতা নিবেন বলে জানান। এ দিকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজী বলেন, আওয়ামী লীগের কমিটিতে শিক্ষক ফারুক হোসেনকে পদ না দেওয়ায় সে আওয়ামী লীগ তুলে গালমন্দ করে। তাই নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ জানালে তার সাথে বাক-বিতন্ডা হয়। এখানে মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফারুক যুবলীগ করে। এজন্য তাকে আওয়ামী লীগের কমিটিতে রাখা হয়নি। যেহেতু আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, তাই সে আমার এবং দলীয় নেতাকর্মীদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে গালমন্দ করে। এছাড়াও নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপ-প্রচার চালায়।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, বিষয়টি জেনেছি। সে (ফারুক হোসেন) যদি অভিযোগ দেয়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
০৭ নভেম্বর, ২০২১।

